বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছে মার্কিন ভ্রমণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী মন্তব্য ও শুল্কনীতির প্রতিবাদে ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কানাডার পর্যটকরা। ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ আখ্যা দেওয়া এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে উল্লেখ করার পর থেকে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফলে অনেকে আগে থেকেই পরিকল্পিত মার্কিন সফর বাতিল করে নিজ দেশ কিংবা ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণে আগ্রহী হচ্ছেন।
নিউ ইয়র্ক হয়ে পানামা খাল ভ্রমণের সিদ্ধান্ত বদলে এক কানাডীয় দম্পতি রোম ও বার্সেলোনা রুট বেছে নেন। সেখানকার প্রাচীন স্থাপত্য ও স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতায় তারা সন্তুষ্ট। অন্টারিওর বাসিন্দা কেন্ট ট্রাসকট জানান, টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারশিপ উৎক্ষেপণ দেখার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তাঁরা নোভা স্কশিয়া ও প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন। কাবট ট্রেইলে হেঁটেছেন, আটলান্টিক উপকূলে মহিলা পরিচালিত রিসোর্টে থেকেছেন এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিয়েছেন—মার্কিন সফরে যে অর্থ খরচ হওয়ার কথা ছিল, তা কানাডাতেই ব্যয় করেছেন তাঁরা।
ভ্যাঙ্কুভারের অবসরপ্রাপ্ত নিক স্মিথ ২০১৬ সালের পর থেকেই মার্কিন সফর এড়িয়ে চলছেন। বাইডেনের সময় কিছুটা ভ্রমণ করলেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আবার বন্ধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়লেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরব, এমন না—বাস্তব সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ দেখতে চাই।’’ গত বছর তিনি সরাসরি ভ্যাঙ্কুভার থেকে মেক্সিকো সিটি এবং স্ত্রীকে নিয়ে মরক্কো ভ্রমণ করেছেন, যেখানে মারাকেশ, ফেজ ও এসাউইরা শহর ঘুরে রমজানের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছেন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্রিস্টি মিচেলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল স্পেনের ক্যামিনো ফ্রান্সেস পথে হাঁটার। ট্রাম্পের নীতিতে হতাশ হয়ে তিনি লাস ভেগাসের বদলে স্পেনে ৭৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। পথে নানা দেশের মানুষের সঙ্গে গভীর কথোপকথন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতে আবার যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তিনি, তবে শর্ত—হোয়াইট হাউসে নতুন নেতৃত্ব ও কানাডা-মার্কিন সম্পর্কের পুনর্মিলন।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এপ্রিলে কানাডা থেকে মার্কিন সড়কপথে ভ্রমণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ কমেছে। এর ফলে গত বছর মার্কিন পর্যটন খাতে রাজস্ব কমেছে প্রায় ৩৩০ কোটি কানাডীয় ডলার (২৩৫ কোটি মার্কিন ডলার)। ফিরিয়ে আনতে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ ব্রডওয়ে ও হোটেলে ৩০% ছাড় ঘোষণা করলেও, কানাডীয় ডলারের দুর্বলতা ও ট্রাম্পের নীতিতে অনাগ্রহ অনেককে দমিয়ে রাখছে।
অনেক কানাডিয়ান মনে করছেন, কেবল ট্রাম্প বিদায় নিলেই সম্পর্ক আগের জায়গায় ফিরবে না—প্রয়োজন গভীর কূটনৈতিক ও আচরণগত পরিবর্তন। কানাডার নাগরিকরা এখন নিজের দেশের সৌন্দর্য আবিষ্কার করছেন, কিংবা ইউরোপ-আফ্রিকার পথে পা বাড়াচ্ছেন, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।