বিজ্ঞাপন
আমেরিকায় ফ্যামিলি স্পন্সরশিপে নতুন গাইডলাইন
আবেদনকারীদের জন্য যা জানা জরুরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি স্পন্সরশিপের নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ইউএসসিআইএস ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন যাচাইয়ে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেসে উত্থাপিত একটি বিল পাস হলে বাবা-মা, ভাই-বোন ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের স্পন্সর করার বর্তমান সুযোগের বড় অংশই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবিত সেই বিল এখনো আইন হয়নি। বর্তমানে প্রচলিত ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ আইনই বহাল রয়েছে।
ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালের ১ আগস্ট ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন নিয়ে পলিসি ম্যানুয়ালে নতুন নির্দেশনা যোগ করে। এটি ওই তারিখে নতুন করে জমা দেওয়া আবেদনের পাশাপাশি তখন পেন্ডিং থাকা পিটিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়।
নতুন নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে, ফ্যামিলি-বেসড গ্রিন কার্ডের ভিত্তি যে পারিবারিক সম্পর্ক, সেটি সত্য ও আইনসম্মত কি না তা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে বিয়ের ভিত্তিতে করা পিটিশনে বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা এবং আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ।
ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে পিটিশনার ও বেনিফিশিয়ারিকে ইন্টারভিউতে ডাকতে পারেন। ফলে নতুন নিয়মকে সব ফ্যামিলি পিটিশনের জন্য বাধ্যতামূলক ইন-পারসন ইন্টারভিউ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। বরং কোন পরিস্থিতিতে ইন্টারভিউ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস তার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নোটিস টু অ্যাপিয়ার বা এনটিএ। শুধু আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের নিশ্চয়তা দেয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি আইন অনুযায়ী রিমুভেবল হলে প্রযোজ্য পরিস্থিতিতে এনটিএ ইস্যু করা হতে পারে। এনটিএ হচ্ছে ইমিগ্রেশন কোর্টে রিমুভাল প্রসিডিংস শুরু করার আনুষ্ঠানিক নোটিস।
এর মধ্যেই ফ্যামিলি ইমিগ্রেশনের কাঠামো আরও বড়ভাবে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে কংগ্রেসে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্যারি মুর ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল এইচআর ৮৫৮৬ বা ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। পরদিন তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটির বিস্তারিত প্রকাশ করে।
বিলটি বর্তমান অবস্থায় পাস হলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে স্পন্সর করার যোগ্য আত্মীয়ের তালিকায়। প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকদের ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরি থেকে বাবা-মাকে বাদ দিয়ে মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান আইনের এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিগুলোর বড় অংশ বাতিল করার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্তমান আইনে মার্কিন নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্তে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য পিটিশন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরাও নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানের জন্য আবেদন করতে পারেন। কাজেই এখনই বাবা-মা বা ভাই-বোনের স্পন্সরশিপ বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি সঠিক নয়।
আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্টে ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি আইনগতভাবে বাতিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ড কাঠামোর পরিবর্তে পয়েন্টভিত্তিক মেরিট সিস্টেম চালুর কথা বলা হয়েছে। সেখানে শিক্ষা, ইংরেজিতে দক্ষতা, উচ্চ বেতনের চাকরির অফারসহ বিভিন্ন যোগ্যতার ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিভি লটারি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ডিভি প্রোগ্রাম আইন থেকে বিলুপ্ত হয়নি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্টেট ডিপার্টমেন্ট ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং স্ক্রিনিং ও ভেটিং ব্যবস্থা পর্যালোচনার কথা জানায়। অর্থাৎ প্রশাসনিকভাবে ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে ডিভি প্রোগ্রাম পুরোপুরি বাতিল করা এক বিষয় নয়।
বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও বড় একটি বিষয় রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারির নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু ২১ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যখন সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনিং ও পাবলিক বেনিফিটস নীতি পর্যালোচনা চলছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শুধু আই-১৩০ নিয়ম নয়, এই আলাদা ভিসা-ইস্যু নীতিটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট বা আই-৮৬৪ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেডিট স্কোর, তিন বছরের সার্টিফায়েড ট্যাক্স রিটার্ন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে বলে যেসব দাবি ছড়াচ্ছে, সেগুলোকে বর্তমান কার্যকর নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোনো প্রস্তাবিত পরিবর্তন এবং বর্তমানে কার্যকর আইনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নতুন কোনো বিধি কার্যকর হলে তার কার্যকর হওয়ার তারিখ ও চূড়ান্ত শর্ত সরকারি ঘোষণায় নির্ধারিত হয়।
তবে আই-৮৬৪ সই করার পর স্পন্সরের আর্থিক দায় দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। শুধু ডিভোর্স হয়ে গেলেই সাধারণভাবে সেই দায় শেষ হয়ে যায় না। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলে স্পন্সরের দায়িত্ব শেষ হতে পারে।
সব মিলিয়ে এখন ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ বন্ধ হয়নি এবং বাবা-মা বা ভাই-বোনকে স্পন্সর করার বর্তমান আইনও বাতিল হয়নি। কিন্তু ইউএসসিআইএসের যাচাই ও ভেটিং নীতি আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে এবং কংগ্রেসে এমন একটি বিল রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইন হলে পুরো ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাই উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে। তাই আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও পারিবারিক পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং জটিল ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।