বিজ্ঞাপন
ইতালিতে বাংলাদেশিদের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি, ৪৬ বছরের সুখ্যাতি ক্ষুণ্ণ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬ এএম
বিজ্ঞাপন
ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাংশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আইন অমান্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরির ফলে সেখানে থাকা সাধারণ ও নিরপরাধ বাংলাদেশিদের দিন কাটছে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও হতাশায়।
প্রবাসীদের মতে, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ইতালিতে বাংলাদেশিদের প্রায় ৪৬ বছরের অর্জিত ইতিবাচক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
জানা গেছে, ইতালিতে বাংলাদেশের প্রায় ৬৪ জেলার একাধিক আঞ্চলিক সমিতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পদের আশায় এক জেলার একাধিক কমিটি গঠিত হলেও প্রবাসীদের কল্যাণে এদের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। বার্ষিক পিকনিকের মধ্যেই অধিকাংশ সমিতির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ।
সম্প্রতি ট্রিপল মার্ডার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিনের ওপর হামলা এবং শিল্পী সালমা আক্তারের অনুষ্ঠানে হাতাহাতির মতো ঘটনার পরও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অপরাধ প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
গত ১১ আগস্ট নিহত কামালের পরিবারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক ইতালীয় নাগরিক উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানালেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক প্রবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সব জায়গায় ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখলে চলে না। ট্রিপল খুনের মতো ট্র্যাজেডিতেও জানাজায় প্রবাসীদের এমন নগণ্য উপস্থিতি বাংলা কমিউনিটির ভঙ্গুর ও জীর্ণ অবস্থাকেই প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনের বিষয়ে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এটিএম রফিকুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে—প্রথমে খুদে বার্তা পাঠিয়ে উত্তর মেলেনি এবং পরবর্তীতে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বনি আমিনের ওপর হামলা ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
ট্রিপল খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই অস্ট্রেলীয় নাগরিক বাংলাদেশি বংশদ্ভূত ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে জার্মানি হয়ে ইতালির রোমে এলে গত ২১ জুলাই রাতে তিনি হামলার শিকার হন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আহত হওয়ার ছবি প্রকাশ করে বনি আমিন জানান, রোমের বাংলাদেশি অধ্যুষিত তরপিনাত্তারা এলাকায় রাতে একা পেয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শগত কারণে তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। বিষয়টি এখন ইতালীয় পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে এবং বিস্তারিত ভিডিও সামনে আনা হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে ইতালি বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক সোহাগ খান বলেন, একজন বিদেশি পর্যটক বা প্রবাসী এসে হামলার শিকার হবেন বা প্রবাসে খুনের মতো ঘটনা ঘটবে—তা মেনে নেওয়া যায় না। ভিন্ন মত থাকলেও তা যেন মারামারি বা হত্যাকাণ্ডের দিকে না যায়। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মুষ্টিমেয় কিছু অপরাধীর কর্মকাণ্ডের কারণে ইতালীয় সমাজে সাধারণ বাংলাদেশিদের অবমূল্যায়ন ও হীন চোখে দেখা হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রবাসীরা। সংকট নিরসনে তারা বাংলাদেশ দূতাবাস ও রোমের স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এদিকে দীর্ঘ একমাস অতিক্রম হয়ে গেলেও ট্রিপল মার্ডারের আসামী শাহাদাত হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে হন্য হয়ে খুঁজছেন। এখনও সে পলাতক। প্রশাসনের সন্দেহ বাংলা কমিউনিটির কেউ হয়তো তাকে সহযোগিতা করছেন।