বিজ্ঞাপন
বাসায় আইসিই এলে কী করবেন? বাংলাদেশিদের জানা জরুরি ৫ রাইটস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য নিজেদের মৌলিক রাইটস জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স বা এমওআইএ বলছে, আইসিইর মুখোমুখি হলেও একজন ব্যক্তির কিছু রাইটস রয়েছে এবং এসব রাইটস সম্পর্কে আগে থেকেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখা জরুরি।
বিশেষ করে বাসায় আইসিই এলে আতঙ্কিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে দেওয়া, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে কথা বলা কিংবা না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করার আগে পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ ‘নো ইয়োর রাইটস’ নির্দেশনায়ও অভিবাসীদের নিজেদের রাইটস সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
প্রথমত, আইসিই এজেন্ট দরজায় এলেই তাকে ঘরে ঢুকতে দিতে হবে এমন নয়। আপনার সম্মতি ছাড়া সাধারণভাবে বাসায় প্রবেশের জন্য তাদের বিচারকের স্বাক্ষর করা বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট প্রয়োজন। আইসিই বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জারি করা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ওয়ারেন্ট এবং আদালতের জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট এক বিষয় নয়।
দরজা না খুলেই এজেন্টদের ওয়ারেন্ট দেখাতে বলা যায়। সেটি দরজার নিচ দিয়ে দিতে বা জানালার মাধ্যমে দেখাতে বলতে পারেন। ওয়ারেন্টটি বিচারকের স্বাক্ষর করা কি না, ঠিকানা সঠিক কি না এবং তারা যে জায়গায় প্রবেশ করতে চাইছেন সেটি ওয়ারেন্টের আওতায় আছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট থাকলে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
দ্বিতীয়ত, আপনার চুপ থাকার রাইট রয়েছে। আপনি কোথায় জন্মেছেন, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন কিংবা আপনার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস কী, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ থাকার রাইট ব্যবহার করতে পারেন। তবে কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া ডকুমেন্ট দেখানো উচিত নয়।
তৃতীয়ত, না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করবেন না। আইসিই হেফাজতে নেওয়ার পরও এমন ডকুমেন্ট সামনে আসতে পারে যার আইনি প্রভাব একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা কঠিন। তাই কোনো কাগজের অর্থ না বুঝলে আইনজীবীর পরামর্শ ছাড়া স্বাক্ষর না করাই নিরাপদ।
চতুর্থত, আটক হলে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের রাইট রয়েছে। তবে ইমিগ্রেশন কোর্টের বিষয়টি ক্রিমিনাল কোর্টের মতো নয়। সরকার সাধারণত নিজের খরচে ইমিগ্রেশন আইনজীবী নিয়োগ করে দেয় না। এ কারণে আগে থেকেই বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বা লিগ্যাল সার্ভিস সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পরিবারের কাছে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্ক সিটির এমওআইএ বর্তমানে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে নিউইয়র্কবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ও গোপনীয় ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। আইসিই বাসায় এলে বা পরিবারের কেউ আটক হলে এমওআইএ ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়।
পঞ্চমত, পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করুন। পালানোর চেষ্টা, শারীরিক বাধা, ধাক্কাধাক্কি বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। নিজের রাইটস ব্যবহার করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে শারীরিকভাবে বাধা না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিইর উপস্থিতি রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এবং এজেন্টদের কাজে বাধা না দিয়ে ঘটনা নথিবদ্ধ করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত বাসার ভেতরে অন্য কারও কথোপকথনের অডিও রেকর্ড করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
পরিবারের কেউ আটক হওয়ার আগেই একটি ইমার্জেন্সি প্ল্যান তৈরি করে রাখা উপকারী। গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন ডকুমেন্টের কপি, আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য এবং জরুরি অবস্থায় সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দায়িত্ব কে নেবেন, এসব আগেই ঠিক করে রাখা যেতে পারে। মূল ডকুমেন্ট এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য সেটি খুঁজে পাবেন।
নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, এমওআইএর লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারগুলো বিভিন্ন অভিবাসী এলাকায় বিনামূল্যে ইমিগ্রেশন সহায়তা দেয় এবং বাংলা ভাষাতেও তথ্য পাওয়া যায়। কারও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলেও সহায়তা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইসিই দরজায় এসেছে মানেই নিজের সব রাইটস শেষ হয়ে গেছে এমন নয়। আবার রাইটস ব্যবহার করার অর্থ এজেন্টদের শারীরিকভাবে বাধা দেওয়াও নয়। দরজা খোলার আগে ওয়ারেন্ট যাচাই করা, চুপ থাকার রাইট ব্যবহার করা, না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর না করা, দ্রুত বিশ্বস্ত আইনি সহায়তা নেওয়া এবং পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করাই পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্য ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। প্রত্যেকের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা স্বীকৃত লিগ্যাল সার্ভিস প্রোভাইডারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।