বিজ্ঞাপন
অস্ট্রেলিয়ায় ডেলিভারি কর্মীদের জন্য সুখবর: সর্বনিম্ন মজুরি ৩১ডলার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
অস্ট্রেলিয়ায় খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ডেলিভারির কাজে যুক্ত গিগ কর্মীদের জন্য এক যুগান্তকারী নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় এসব কর্মীর জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশি বেতন এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই নিয়মের ফলে দেশটির অন্তত আড়াই লাখ ডেলিভারি কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার শ্রম ও শিল্প খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন' (এফডব্লিউসি) গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এই যুগান্তকারী আদেশের অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, গিগ কর্মীদের প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ৩১ দশমিক ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার (যা প্রায় ২২ দশমিক ১১ মার্কিন ডলার) মজুরি দিতে হবে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি হলো ঘণ্টায় ২৬ দশমিক ৪৪ ডলার। অর্থাৎ, এখন থেকে ডেলিভারি কর্মীরা সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।
কাজের সময়ের হিসাব কীভাবে হবে, সেটিও আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, একজন কর্মী যখন কোনো কাজের অর্ডার বা ‘জব’ গ্রহণ করবেন এবং সেটি গ্রাহকের কাছে সফলভাবে ডেলিভারি করে শেষ করবেন কেবলমাত্র এই মধ্যবর্তী ‘ব্যস্ত সময়টুকু’ (এনগেজড টাইম) মজুরির হিসাবের আওতায় আসবে।
মজুরির পাশাপাশি কর্মীদের সুরক্ষায় বিমার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন নিয়মে ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের ব্যক্তিগত দুর্ঘটনার জন্য একটি ‘যৌক্তিক ও ন্যূনতম মাত্রার’ বিমা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিমার আওতা ঠিক কতটুকু হবে, তা আদেশে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। অন্যদিকে, ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত নিজস্ব যানবাহনের ‘থার্ড-পার্টি’ বা তৃতীয় পক্ষের বিমা করার দায়িত্ব আগের মতোই কর্মীদের নিজেদের কাঁধেই থাকছে।
গিগ অর্থনীতিতে কর্মীদের সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ সামনে এল। এর আগে গত জুনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) গিগ কর্মীদের বেতন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো একটি বাধ্যতামূলক কর্মসংস্থান মানদণ্ড গ্রহণ করেছিল। আইএলও-এর সেই মানদণ্ডগুলো অবশ্য এখনো বিভিন্ন দেশের সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ) ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের এই আদেশকে দেশের গিগ অর্থনীতির জন্য একটি "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
উবার ইটস এবং ডোরড্যাশ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে টিডব্লিউইউ-এর জাতীয় সম্পাদক মাইকেল কেইন বলেন, "অস্ট্রেলিয়ায় গিগ কর্মীদের অনেক দিন ধরেই আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিবেশের সুযোগ-সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছিল। আগামী সোমবার থেকে তারা সম্পূর্ণ বিশ্বমানের একগুচ্ছ অধিকার ও সুবিধা পেতে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করা হবে।"
শুধু রেস্তোরাঁর খাবারই নয়, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহেও যুক্ত হয়েছে উবার ইটস ও ডোরড্যাশ। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই নিয়ম প্রমাণ করে যে কর্মীদের জোরালো সুরক্ষা এবং গিগ কাজের নমনীয়তা দুটি বিষয়ই একসঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব।
দীর্ঘদিন ধরেই ট্রেড ইউনিয়ন ও গিগ কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। সাধারণ কর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গিগ কর্মীকে সাধারণত 'স্বাধীন চুক্তিনামা'র ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে। ফলে তারা প্রচলিত শ্রম আইনের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
এই বৈষম্য দূর করতে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সেন্টার-লেফট বা মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকার ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বেশ কিছু আইন পাস করে। ওই আইনগুলোর মাধ্যমেই মূলত ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনকে গিগ কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ও বিমার মানদণ্ড নির্ধারণের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখা গেল এই নতুন আদেশের মাধ্যমে।