বিজ্ঞাপন
দেশ ছাড়ুন, না হলে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ডলার জরিমানা'
মিশিগানের অভিবাসীর সামনে ট্রাম্পের কঠিন শর্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে চাপ তৈরির অংশ হিসেবে মিশিগানে বসবাসরত ৬৮ বছর বয়সী এক অভিবাসীর ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনের আদেশ দেওয়া হলেও পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগই সেই আদেশ কার্যকর স্থগিত রেখেছিল। এখন দেশ না ছাড়ার কারণ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন তিনি।
এমলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি তার অসুস্থ স্ত্রীর প্রধান দেখাশোনাকারী। তার স্ত্রী একজন মার্কিন নাগরিক। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে ওই অভিবাসীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ২০১২ সালে ডিপোর্টেশনের আদেশ হওয়ার পরও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার রিমুভাল স্থগিত করেছিল। ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান। কিন্তু চলতি বছর তাকে পাঠানো নোটিশে অভিযোগ করা হয়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। এর ভিত্তিতেই তার ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়।
ডেট্রয়েটের ইমিগ্রেশন আইনজীবী রিম খ্রাইজাত ওই ব্যক্তির পক্ষে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের সঙ্গে তার স্ত্রীর চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের চিঠিও জমা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ওই নারী তার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল এবং স্বামীই তার প্রধান পরিচর্যাকারী।
তবে আইনজীবীর দাবি, আইসিই আপিলে তুলে ধরা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়েই জরিমানার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যখন একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দিয়েছে, তখন পরবর্তী সময়ে সেই একই সময়ের জন্য তাকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা কতটা যৌক্তিক।
এ ঘটনা শুধু মিশিগানের একজন অভিবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপের নীতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে এসব জরিমানা মওকুফ করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত আইসিই ডিপোর্টেশন অর্ডারের পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক লাখ তিন হাজারের বেশি জরিমানার নোটিশ দিয়েছে। এসব জরিমানার সম্মিলিত পরিমাণ ৮৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
ট্রাম্প প্রশাসন স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ উৎসাহিত করতে সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জরিমানা মওকুফের সুযোগ পেতে পারেন।
তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও আইনজীবীদের একটি অংশ এই জরিমানা নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে। তাদের অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সংবিধানের অতিরিক্ত জরিমানা নিষিদ্ধ করার বিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা চলছে।
মিশিগানের ওই অভিবাসীর ঘটনা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ নীতির বাস্তব প্রভাবের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাদের পুরোনো ডিপোর্টেশন অর্ডার রয়েছে কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এ ধরনের জরিমানার নীতি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।