Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ভারতের ই-ভিসা ব্যবস্থায় বড় বদল, যুক্ত হলো ডাউকি-হরিদাসপুর-গেদে

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

ভারতের ই-ভিসা ব্যবস্থায় বড় বদল, যুক্ত হলো ডাউকি-হরিদাসপুর-গেদে

বিজ্ঞাপন

ভারতের ই-ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ই-ভিসাধারীদের জন্য নতুন করে ১১টি আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ যুক্ত করেছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ডাউকি, হরিদাসপুর ও গেদে স্থলবন্দরও রয়েছে। নতুন এসব পথ যুক্ত হওয়ায় এখন মোট ৮৮টি নির্ধারিত অভিবাসন চৌকি দিয়ে ই-ভিসাধারীরা ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, হিমালয়ের বরফঢাকা পাহাড়, রাজস্থানের রাজপ্রাসাদ, কেরালার নৌপথ আর গোয়ার সমুদ্রসৈকত—প্রতিবছরই লাখো পর্যটক ভারত ভ্রমণে যান। তবে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভারত ভ্রমণের প্রস্তুতি শুরু হয় বিমানে ওঠার অনেক আগেই, ভিসার আবেদন করার মাধ্যমে।

ভ্রমণপ্রক্রিয়া আরও সহজ ও সবার জন্য সহজলভ্য করতে ২০১৪ সালে ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করে ভারত। বছরের পর বছর এই ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে ১৭২টি দেশের নাগরিকরা ভারতের ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। সম্প্রতি ই-ভিসাধারীদের জন্য ভারতে প্রবেশের অনুমোদিত পথের সংখ্যাও বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। এতে ই-ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশের প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ই-ভিসাধারীরা এখন আরও ১১টি আন্তর্জাতিক বন্দরের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বিমানবন্দর ও ৯টি স্থলবন্দর। নতুন যুক্ত হওয়া স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের পাঞ্জাবের আত্তারি সীমান্তও রয়েছে।

নতুন ৯টি স্থলবন্দর হলো—দাররাঙ্গা, গেদে, ঘোষাডাঙ্গা, হরিদাসপুর, জয়গাঁও, ডাউকি, মোরেহ এবং আত্তারি (সড়ক পথে)। নতুন দুটি বিমানবন্দর হলো—ভোপাল ও তিরুপতি। এর ফলে ই-ভিসাধারীরা এখন মোট ৮৮টি নির্ধারিত অভিবাসন চৌকি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭টি বিমানবন্দর, ৩৮টি সমুদ্রবন্দর এবং ১৩টি স্থলবন্দর।

মূলত ই-ভিসা সুবিধার মাধ্যমে যোগ্য বিদেশি নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন, অনলাইনেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারেন এবং ভ্রমণের আগে ই-মেইলের মাধ্যমে ভ্রমণের অনুমোদন পেতে পারেন।

ভারতের ই-ভিসা কয়েকটি ক্যাটাগরিতে দেয়া হয়। এগুলো হলো— ই-ট্যুরিস্ট ভিসা, ই-বিজনেস ভিসা, ই-মেডিকেল ভিসা, ই-মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা, ই-স্টুডেন্ট ভিসা, ই-ফ্যামিলি ভিসা, ই-ট্রানজিট ভিসা এবং ই-মিসেলেনিয়াস ভিসা।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও অনেক দেশের নাগরিকরা ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। কোন কোন দেশের নাগরিকরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত, তার পূর্ণ তালিকা ভারতের সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব উদ্দেশ্যে ভারতে যেতে চাইলে ই-ভিসার জন্য আবেদন করা যায়, সেগুলো হলো— পর্যটন, বিনোদন ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা, বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদি যোগব্যায়াম কর্মসূচি এবং সংগীত, স্থানীয় ভাষা, নাচ, চারুকলা, হস্তশিল্প ও রান্নার মতো বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক স্বল্পমেয়াদি কোর্স, কোনও পারিশ্রমিক ছাড়া সর্বোচ্চ এক মাসের স্বল্পমেয়াদি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, চিকিৎসা গ্রহণ, ই-মেডিকেল ভিসাধারীর সঙ্গে থাকা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্মেলন, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নেয়া।

ই-ভিসার যোগ্যতার শর্ত

আবেদনের আগে ভ্রমণকারীদের বেশ কিছু শর্ত পূরণ করার বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। সেগুলো হলো— আবেদনের তারিখ থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। ফেরত যাওয়ার বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট থাকতে হবে। ভারতে অবস্থানের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকতে হবে।

এছাড়া প্রত্যেক ভ্রমণকারীর নিজস্ব আলাদা পাসপোর্ট থাকতে হবে। কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীরা ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের ভারতের কোনও মিশনের মাধ্যমে নিয়মিত ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার