Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ

লন্ডন থেকে স্পেন মাত্র ২৬৫ পাউন্ডে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৫ এএম

বিমান ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণের চমৎকার সুযোগ

বিজ্ঞাপন

উড়োজাহাজে চড়ার ভয়, বিমানবন্দরের দীর্ঘ প্রক্রিয়া কিংবা আকাশপথ এড়িয়ে ইউরোপ ভ্রমণের ইচ্ছা—যে কারণেই হোক, যুক্তরাজ্য থেকে স্পেনে যাওয়ার এক ব্যতিক্রমী পথ দেখিয়েছেন এক নারী। উড়োজাহাজ ব্যবহার না করে লন্ডন থেকে স্পেনের মালাগা পর্যন্ত পুরো পথ ট্রেনে পাড়ি দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, কিছুটা বেশি সময় হাতে থাকলে আকাশপথের বিকল্প হিসেবেও রেলপথ ব্যবহার করা সম্ভব।

ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লেয়ার নামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার যাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে ইউরোস্টারে প্রথমে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যেতে হবে। এই অংশের ভাড়া প্রায় ৪৯ পাউন্ড থেকে পাওয়া যেতে পারে।

এরপর যাত্রীদের সামনে রয়েছে দুটি বিকল্প। প্যারিসে এক রাত অবস্থান করে পরদিন যাত্রা চালিয়ে যাওয়া যায়। অথবা একই দিন দুপুর ২টা ৪২ মিনিটের ট্রেনে প্যারিস থেকে সরাসরি বার্সেলোনার উদ্দেশে রওনা দেওয়া যায়। ওই ট্রেনের ভাড়া প্রায় ৮৯ পাউন্ড এবং এটি রাত ৯টা ৩২ মিনিটের দিকে বার্সেলোনায় পৌঁছায়।

বার্সেলোনায় রাত কাটানোর জন্য শহরের প্রধান রেলস্টেশন বার্সেলোনা সান্তসের আশপাশে প্রায় ৬৫ পাউন্ডে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে থাকার খরচ ভ্রমণের সময়, বুকিংয়ের সময় এবং কক্ষের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

বার্সেলোনায় চাইলে যাত্রীরা এক রাতের বদলে দুই রাতও থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে শুধু মালাগার উদ্দেশে ছুটে যাওয়ার পরিবর্তে বার্সেলোনা ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ফিগেরেস, জিরোনা ও জারাগোজার মতো আশপাশের শহরেও যাওয়া সম্ভব।

পরদিন সকাল ১১টার দিকে বার্সেলোনা থেকে মালাগার উদ্দেশে সরাসরি ট্রেনে যাত্রা শুরু করা যায়। প্রায় সাত ঘণ্টার এই যাত্রা শেষে বিকেল ৬টার কিছু আগে মালাগায় পৌঁছানোর কথা। এই অংশের ট্রেনভাড়া প্রায় ৫৮ পাউন্ড।

ক্লেয়ারের দেওয়া উদাহরণভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট ও এক রাতের থাকার খরচ মিলিয়ে পুরো যাত্রায় প্রায় ২৬৫ পাউন্ড ব্যয় হতে পারে।

তবে এই খরচকে নির্দিষ্ট বা স্থায়ী ভাড়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ট্রেনের টিকিট কত আগে বুক করা হচ্ছে, আসন কতটা পাওয়া যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট রেলসেবায় কোনো ছাড় বা বিশেষ মূল্য রয়েছে কি না—এসবের ওপর মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম-বেশি হতে পারে।

এই ব্যতিক্রমী ভ্রমণপদ্ধতি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই উড়োজাহাজের পরিবর্তে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ পেরিয়ে ট্রেনে ভ্রমণের ধারণাটিকে আকর্ষণীয় বলে মনে করছেন। কেউ কেউ এমন যাত্রায় আগ্রহ প্রকাশ করলেও অনেকে মনে করছেন, সময়ের দিক থেকে এটি যথেষ্ট দীর্ঘ এবং ধৈর্যের প্রয়োজন হবে।

তবে রেলপথে ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ হলো—পুরো যাত্রাপথে ইউরোপের বিভিন্ন শহর ও প্রাকৃতিক দৃশ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ। বিমানে কয়েক ঘণ্টায় যে দূরত্ব অতিক্রম করা যায়, ট্রেনে সেই পথ পাড়ি দিতে বেশি সময় লাগলেও মাঝপথে বিভিন্ন শহরে থামা এবং ভ্রমণকে একটি আলাদা অভিজ্ঞতায় পরিণত করার সুযোগ থাকে।

ক্লেয়ার যাত্রীদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, সংযোগকারী ট্রেনের মধ্যে পর্যাপ্ত সময় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ট্রেন বিলম্বিত হলে পরবর্তী ট্রেন ধরতে সমস্যা হতে পারে। একই সঙ্গে এক স্টেশন থেকে অন্য ট্রেনে মালপত্র স্থানান্তরের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

বিশেষ করে বার্সেলোনায় রাত কাটানোর ক্ষেত্রে সান্তস রেলস্টেশনের কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা বেছে নেওয়া সুবিধাজনক। এতে পরদিন সকালে মালাগাগামী ট্রেনে পৌঁছাতে অতিরিক্ত যাতায়াতের ঝামেলা কমে।

সব মিলিয়ে, উড়োজাহাজের তুলনায় সময় বেশি লাগলেও লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত পুরো যাত্রা রেলপথে সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। আগাম পরিকল্পনা, সঠিক সময়ের টিকিট এবং পর্যাপ্ত বিরতি নিশ্চিত করতে পারলে প্রায় ২৬৫ পাউন্ডের উদাহরণভিত্তিক বাজেটেও দুই দিনের এই ব্যতিক্রমী ইউরোপ ভ্রমণ সম্ভব হতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার