বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, বাতিল ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাতিলের ক্ষেত্রে অপরাধে জড়িত থাকা, আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন কারণ সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে, বিদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা, জননিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে।
এর আগে পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ভিসা বাতিলের উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মতো বিষয়ও রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডও ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে।
তবে ভিসা বাতিল এবং ভিসা ইস্যু স্থগিত করা এক বিষয় নয়। কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হলে সেটি নতুন ভিসা পাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ তৈরি করে। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তির বিদ্যমান ভিসা বাতিল হলে তিনি সেই ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ হারাতে পারেন।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ক্রিনিং আরও কঠোর করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যাপারে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সময়ে কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যুর ওপর পূর্ণ বা আংশিক স্থগিতাদেশও কার্যকর করা হয়েছে।
বাংলাদেশি অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এসব পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে এই স্থগিতাদেশ এবং ব্যক্তিগত ভিসা বাতিলের বিষয় দুটি আলাদা নীতি। ফলে কারও বৈধ ভিসা বাতিল হয়েছে কি না, কিংবা নতুন ভিসা ইস্যুতে কোনো বিধিনিষেধ প্রযোজ্য কি না, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য নীতির ওপর।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কোনো বিদেশি নাগরিক যদি মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেন বা জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেন, তাহলে তার ভিসা বাতিলসহ প্রযোজ্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।