বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে হত্যা, জার্মানিতে গ্রেপ্তার ভারতীয় ছাত্র
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
অ্যারিজোনার টাকসনে ১৯ বছর বয়সী প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে জার্মানিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় জার্মানিতে আটক হন ভারুন ব্যাচিগারি। তাকে অ্যারিজোনায় ফিরিয়ে এনে মামলার কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি চলছে।
নিহত তরুণীর নাম জুলিসা রুবি সালাজার। গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কাছাকাছি টাকসনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের অনুরোধে পুলিশ সেখানে ওয়েলফেয়ার চেক করতে গেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টাকসন পুলিশ জানিয়েছে, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তদন্তে গলা টিপে হত্যার আলামত পাওয়া যায়।
পুলিশের তদন্তে সালাজারের প্রেমিক ব্যাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যাচিগারি সালাজারের মোবাইল ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যান এবং তার মায়ের কাছে সালাজারের পরিচয়ে একাধিক বার্তা পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিবারের সন্দেহ হলে তারা পুলিশের কাছে ওয়েলফেয়ার চেকের অনুরোধ করেন।
হত্যাকাণ্ডের দিনই ব্যাচিগারি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি টাকসন থেকে হিউস্টন হয়ে জার্মানির বার্লিনে যান এবং সেখান থেকে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে জার্মানিতে পৌঁছানোর পর এফবিআই ও টাকসন পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি জার্মান হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে অ্যারিজোনায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাচিগারি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় পড়াশোনা করতেন। পরে একটি মারামারির ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আগের সহিংস আচরণ এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সালাজার তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার পরিকল্পনা করছিলেন এবং ব্যাচিগারির আচরণ নিয়ে তিনি ভয় পেতেন। তার মৃত্যুর আগের দিন সালাজারের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চিৎকার শোনার কথাও এক রুমমেট তদন্তকারীদের জানিয়েছেন।
এদিকে ব্যাচিগারির যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান এবং তার ভিসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তার অভিবাসন স্ট্যাটাস বা ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট তথ্য এখনো সরকারি সূত্রে প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।
জার্মানিতে গ্রেপ্তার ব্যাচিগারিকে অ্যারিজোনায় ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে পিমা কাউন্টিতে হেফাজতে নেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাচিগারিকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।