বিজ্ঞাপন
কলকাতার কাছে মমতার গাড়িতে হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার কাছে উত্তর ২৪ পরগনায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মমতার দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ইট-পাথরের আঘাতে তার মাথা ফেটে যেতে পারত এবং তিনি নিহত হতে পারতেন বলেও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেত্রী। তবে হামলার ঘটনায় নিজেদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে বিজেপি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। বিক্ষোভকারীরা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর গাড়ি ঘিরে ফেলেন, গাড়িতে কাদা মাখিয়ে দেন এবং জুতা ও পানির বোতল ছোড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের পেছনে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, ‘পুলিশের সামনে বাইরে থেকে আসা দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে পাথরের আঘাতে আমার মাথা ফেটে যেতে পারত। আমি মারা যেতে পারতাম। এমন হামলার মুখে আমি আগে কখনও পড়িনি। আমাদের নিরাপত্তায় পুলিশ কিছুই করেনি। তারা শুধু বিজেপিকে নিরাপত্তা দেয়।’
মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভা সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু অধিকারী) পুলিশকে ব্যবহার করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।’
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য দলীয় কর্মীদের কোনও ধরনের সহিংসতা সহ্য করবেন না বলে বরাবরই বলে আসছেন। তিনি সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগ এমন সময় উঠল, যখন কয়েক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় পরাজয়ের পর তার ভাতিজা ও তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
এনডিটিভি বলছে, রোববার (৯ আগস্ট) সকালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় গিয়েছিলেন মমতা। সেখানে তিনি সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। কেওট পুলিশের হেফাজতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগে গত শুক্রবার কেওটকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান। কাঞ্চরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মা অভিযোগ করেছেন, থানার লকআপে তার স্বামীকে নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও কেওটকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তৃণমূলের এই নেতা বলেন, ‘এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও যখন রাষ্ট্র একজন মানুষকে হেফাজতে নিতে পারে এবং তিনি আর জীবিত বের হতে পারেন না, তখন বিষয়টি আর শুধু আইনশৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আইনের শাসন নিয়েই প্রশ্ন।’
পুলিশ হেফাজতে কেওটের মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে এখনও পুলিশের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।