Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ১৮ তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন তরুণী

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ১৮ তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন তরুণী

বিজ্ঞাপন

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রেমিকের সঙ্গে তীব্র বাক্‌বিতণ্ডার পর ১৮ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বেঁচে গেছেন ২০ বছর বয়সি এক তরুণী। অলৌকিক এই ঘটনায় নিচে থাকা একটি গাছ তার পতনের গতি কমিয়ে দেয়, ফলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি। তবে মাথা, ফুসফুস, যকৃত ও প্লীহাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন ওই তরুণী। বর্তমানে তার চিকিৎসা চললেও বিপুল ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই ভোর ৪টার দিকে ঝেজিয়াং প্রদেশের জিয়াশিং শহরে এ ঘটনা ঘটে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে ওই তরুণীর প্রকৃত নাম প্রকাশ না করে তাকে ‘শিয়াওই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ওই দিন ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে প্রেমিকের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে তর্কবিতর্ক চলছিল শিয়াওইয়ের। তিনি আগেই এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং গত ১০ জুলাই নিজ শহর ইউনান প্রদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিটও কেটেছিলেন। কিন্তু তার প্রেমিক তাকে যেতে দিচ্ছিলেন না।

তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, ১১ জুলাই রাতে আবারও ঝগড়া শুরু হলে প্রেমিক তাকে বাসা থেকে বের হতে বাধা দেন। এ সময় তিনি শিয়াওইয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন এবং অ্যাপার্টমেন্টের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেন।

পরিবারের দাবি, সেখান থেকে বের হওয়ার আর কোনো উপায় না দেখে মরিয়া হয়ে ১৮ তলার বারান্দা থেকে লাফ দেন শিয়াওই।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, নিচে থাকা একটি গাছ তার পতনের গতি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। পরে তিনি ঝোপঝাড়ের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।

ঘটনার পর তার প্রেমিকই তাকে দ্রুত কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ হিসেবে ২০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধ করেন।

চিকিৎসকেরা জানান, শিয়াওইয়ের মাথা, ফুসফুস, যকৃৎ ও প্লিহায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া তার শ্রোণি, পিউবিক হাড় ও দুই পা ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে তার দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও একটি অস্ত্রোপচার করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু অর্থসংকটে সেটি হয়নি।

চেতন ফেরার পর শিয়াওই পরিবারের সদস্যদের পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। তার চাচা লি বলেন, ‘ওদের মধ্যে আগেও একাধিকবার ঝগড়া হয়েছিল। ওই দিন সারা রাত ঝগড়ার পর আমার ভাতিজির মাথা ঘুরছিল। তখন তার একমাত্র চিন্তা ছিল যেকোনোভাবে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে প্রেমিকের কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়া।’ তবে তিনি জানান, শিয়াওই এখন নিজের ওই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত।   

আরও পড়ুন
ঘটনার পর চিকিৎসার ব্যয়ের বোঝাও বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারটির জন্য। ২০২২ সালে শিয়াওইয়ের মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ে। তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়, এমনকি ঋণও নিতে হয়।

এদিকে শিয়াওইয়ের চিকিৎসার ব্যয় ইতিমধ্যে এক লাখ ইউয়ান (প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন ডলার) ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে এখনো প্রায় ৬০ হাজার ইউয়ান হাসপাতালের কাছে বকেয়া রয়েছে।

চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারটি অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার ইউয়ান অনুদান পাওয়া গেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যয় কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে পরিবারটি উদ্বিগ্ন।

এ ঘটনার পর শিয়াওইয়ের পরিবার তার প্রেমিককে হাসপাতালে দেখা করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের আশঙ্কা ছিল, তার উপস্থিতি শিয়াওইয়ের মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটাতে পারে।

পরিবারের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি কয়েকবার হাসপাতালের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলে।

শিয়াওইয়ের চাচা লি বলেন, ‘আমার ভাতিজি সত্যিই ভাগ্যবতী। যে জায়গায় সে পড়েছে, তার কয়েক ফুট দূরেই ছিল শক্ত সিমেন্টের মেঝে। সেখানে পড়লে সে মরে যেত।’

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার