Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন ইমরান খান

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন ইমরান খান

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির বিষয়ে নেপথ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী ৭৩ বছর বয়সী এই নেতার স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি ঘটায় তাঁকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট এবং ইমরান খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় একটি প্রাথমিক সমঝোতা প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। দুর্নীতির নানা অভিযোগে ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মূলত শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের জেরেই জনপ্রিয় এই নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ কারাবাস এবং গত কয়েক মাস ধরে বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। চলতি বছরের শুরুতে তাঁর চোখে একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খান জানিয়েছেন, দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় ধরে তাঁদের বাবার সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না; এমনকি আইনজীবীদেরও নিয়মিত প্রবেশাধিকার নেই। এই নিঃসঙ্গ কারাবাস তাঁর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পিটিআই নেতার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারিও অবিলম্বে তাঁর উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে বলেছেন, সরকারের ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকলে মানবাধিকার বিবেচনা করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যগত কারণে শীর্ষ নেতাদের মুক্তির বিষয়টি পাকিস্তানের রাজনীতিতে একেবারেই নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৯ সালে দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দী বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও একই প্রক্রিয়ায় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইমরান খানের ক্ষেত্রেও যদি কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়, তবে সেখানে দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকা এবং প্রকাশ্যে কোনো ধরনের বিবৃতি না দেওয়ার মতো কঠোর সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে ক্রিকেট মাঠে একসময় হেলমেট ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভয়ংকর পেসারদের মোকাবিলা করা আপসহীন স্বভাবের ইমরান খান শেষ পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক আদর্শ বিসর্জন দিয়ে এমন শর্ত মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে খোদ তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মানবাধিকার আইনজীবীদের মধ্যেই যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার