বিজ্ঞাপন
বিদেশি নাগরিকদের ওপর যেভাবে নজরদারি চালাত চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
বিজ্ঞাপন
চীনে বসবাসকারী এবং ভ্রমণরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর চীন সরকার কীভাবে সর্বব্যাপী নজরদারি চালায়, তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভুলবশত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি গোপন ডেটাবেস আবিষ্কার করেছেন মার্ক হোফার নামের এক সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সাবেক বিদেশি সাংবাদিক। খবর এনডিটিভির।
‘ডাইনামিক কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম ফর ওভারসিজ পার্সোনেল’ নামের ওই প্ল্যাটফর্মটিতে ৭০০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যসহ প্রায় ১২,০০০ এন্ট্রি ছিল। এতে বিদেশি সাংবাদিকদের পাশাপাশি পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং কূটনীতিকদের দৈনন্দিন চলাফেরার বিস্তারিত রেকর্ড সংরক্ষিত ছিল।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শীতকালীন অলিম্পিক সহ-আয়োজক শহর ঝাংজিয়াকৌ কেন্দ্রিক এই নজরদারি সিস্টেমে বিদেশিদের পাসপোর্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর, হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, রান্নার গ্যাসের বিল, বিমান ও ট্রেনের টিকিট (আসন নম্বরসহ) এবং স্কি রিসোর্ট পরিদর্শনের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি বিভিন্ন স্থানে বসানো ফেস-রিকগনিশন ক্যামেরার সাহায্যে কারোর কখন কোথায় উপস্থিতি ঘটেছিল, তার সুনির্দিষ্ট সময়ও এতে রেকর্ড করা হতো।
এই সিস্টেমে বিদেশিদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে নজরদারি চালানো হতো। এই যেমন-
ফাইভ আইজ অ্যালায়েন্স: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের এই বিশেষ নজরদারি গ্রুপে রাখা হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ দেশ: ইরান, পাকিস্তান, ইসরাইল, মিশর, মরক্কো ও সুদান থেকে আসা ব্যক্তিদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হতো।
সংবেদনশীল অঞ্চল ও ব্যক্তিবর্গ: হংকং ও তাইওয়ানের অধিবাসী, বিদেশি সাংবাদিক (প্রায় ৩০০ জন) এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের (বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের) ওপর ক্যামেরা ও ফেস-স্ক্যানারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হতো।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও নজরদারি ক্যামেরার অতিকায় জাল ব্যবহার করে চীনে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর বেইজিং কতখানি গভীর নজরদারি বজায় রাখে, এই ঘটনা তারই একটি বড় প্রমাণ।