Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

লিখিতসংবিধান চাইলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী: পরিবর্তনের ইঙ্গিত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৩ পিএম

লিখিতসংবিধান চাইলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী: পরিবর্তনের ইঙ্গিত

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের শতাব্দীপ্রাচীন রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি বলেছেন, তার সরকারের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কর্মসূচি এখন যুক্তরাজ্যে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশটির সাংবিধানিক কাঠামো এবং কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনার ধরন মৌলিকভাবে বদলে যেতে পারে।

অ্যান্ডি বার্নহাম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে “সেকেলে” বলে সমালোচনা করে আসছেন। তার মতে, দেশের সব অঞ্চলে সমান উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও বেশি ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

বর্তমানে বিশ্বের বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য এমন কয়েকটি রাষ্ট্রের একটি, যেখানে এখনো কোনো লিখিত সংবিধান নেই। রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম, সংসদের ক্ষমতা, সরকারের ভূমিকা এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক রীতিনীতি মূলত আইন, আদালতের রায় এবং দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথার ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।

সম্প্রতি ঘোষিত সরকারের নতুন বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনার আওতায় ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাচিত মেয়র ও স্থানীয় প্রশাসনের হাতে আর্থিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। আঞ্চলিক নেতৃত্বকে নিজ নিজ এলাকার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, কর ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও স্বাধীনতা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক কাঠামো নতুন রূপ পাবে। তার ভাষায়, ব্রিটেন এবং বিশেষ করে ইংল্যান্ড দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই ওয়েলস, স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য সমন্বিত ও সুস্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার সময় এসেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমমানের জীবনযাত্রার সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। “প্রতিটি ডাকঘর এলাকার জন্য ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি” নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং বাস্তব নীতির অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ঘোষিত নতুন বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনা ব্রিটেনের অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংস্কার। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো রাজধানীকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে স্থানীয় সরকার ও আঞ্চলিক প্রশাসনের হাতে আরও বেশি দায়িত্ব ও ক্ষমতা তুলে দেওয়া।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের শুরু থেকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাচিত মেয়ররা তাদের এলাকায় আদায় হওয়া আয়করের একটি অংশ নিজেদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি লন্ডন, গ্রেটার ম্যানচেস্টার এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অঞ্চলগুলো তুলনামূলক কম উন্নত এলাকাগুলোর উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা দেবে বলেও পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক টিম বেল বলেন, যুক্তরাজ্যে লিখিত সংবিধান চালু করা হলে সেটি হবে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাংবিধানিক পরিবর্তন। তার মতে, সাধারণত বিপ্লব বা যুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশে এমন পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি মনে করেন, লিখিত সংবিধান কার্যকর হলে সংসদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক নিয়ম পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে এবং স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় সরকারের ক্ষমতার সীমারেখাও আরও স্পষ্ট হবে।

অন্যদিকে, সরকারি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর গভর্নমেন্ট-এর প্রধান নির্বাহী ডক্টর হান্না হোয়াইট বলেছেন, লিখিত সংবিধান গ্রহণ করা হলে তা শুধু ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং রাষ্ট্র পরিচালনার পুরো সাংবিধানিক কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে, যা একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং যুক্তরাজ্যের শতাব্দীপ্রাচীন সাংবিধানিক ব্যবস্থায় অন্যতম বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার