বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে এক কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কিংবা বৈধ ভিসায় এসে নিজেদের নিপীড়নের শিকার বলে দাবি করা আবেদনকারীরা এতদিন তাদের আবেদনের সততা যাচাইয়ের জন্য কাগজপত্রজমা দেয়ার সুযোগ পেতেন। ফলে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস’-এর একজন কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা হতো, যিনি তাদের দাবি যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতেন।
তবে গত ২৭ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা কিংবা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ না থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত আশ্রয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রাথমিক ইন্টারভিউ নেয়ার দীর্ঘদিনের বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ইউএসসিআইএস এখন থেকে মামলাগুলো সরাসরি ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠিয়ে দিতে পারবে এবং আবেদনকারীরা নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের কোনো সুযোগ না পেয়েই সরাসরি বহিষ্কার প্রক্রিয়ার মুখে পড়বেন।
এই নিয়মের আওতায় চার লাখ ৪০ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় চৌদ্দ লাখ ঝুলে থাকা বা পেন্ডিং মামলা ইমিগ্রেশন আদালতে স্থানান্তরিত হতে পারে, যার ফলে দেশ থেকে জোরপূর্বক বহিষ্কার বা রিমুভাল অর্ডারের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইউএসসিআইএস এর যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, আশ্রয় ব্যবস্থায় থাকা বিশাল মামলার জট কমাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ এডলো এক বিবৃতিতে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষার কোনো বৈধ দাবির পরিবর্তে কালক্ষেপণ এবং কাজের অনুমতির জন্য আশ্রয় ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করা হয়েছে। আমেরিকার আশ্রয় ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো সত্যি সত্যিই নিপীড়নের ভয়ে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেয়া।
এই নতুন নিয়ম নিশ্চিত করবে যে সিস্টেমটি ফাঁকফোকর হিসেবে ব্যবহারের জন্য নয় বরং প্রকৃত দাবিগুলোর দ্রুত বিচারেই যেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহৃত হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইমিগ্রেশন আদালতের বিচারকদের কোনো শুনানি ছাড়াই কিছু মামলা খারিজ করার অনুমতি দেয়ায় সমালোচকরা বলছেন, অনেক অভিবাসী হয়তো কখনো নিজেদের পক্ষে কথাই বলার সুযোগ পাবেন না।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত কঠোর ও অমানবিক বলে আখ্যায়িত করেছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় অভিবাসীদের এমনিতেই সীমিত অধিকার রয়েছে, আর এই নতুন নিয়মের মাধ্যমে সেই সুরক্ষাটুকুও কেড়ে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন এজেন্ডাকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল, এই নিয়ম তাদের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।