Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি আবেদনকারী

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪০ এএম

ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি আবেদনকারী

বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি আবেদনকারী। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার মাত্র ৭.৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে মাত্র সাতজন শরণার্থী মর্যাদা বা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পাচ্ছেন।

ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তর (অফপ্রা)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা এবং পুনরায় খোলা আবেদন মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন শরণার্থী মর্যাদা অথবা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পেয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদনের বিষয়ে প্রত্যাখ্যানমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

অফপ্রা এবং ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত (সিএনডিএ)-এর সম্মিলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ৭.৪ শতাংশ। ফ্রান্সে আশ্রয় আবেদনকারীদের নিজ দেশে নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, যুদ্ধ কিংবা গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয় ইউরোপে প্রবেশ বা বসবাসের সহজ কোনো পথ নয়। প্রতিটি আবেদন কঠোর আইনি যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব, দুর্বল দাবি কিংবা অসঙ্গত তথ্যের কারণে অনেক আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশকে নিরাপদ উৎস দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের নতুন আশ্রয়ের আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ঝুঁকির প্রমাণ ছাড়া আবেদন সফল হওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় সীমিত হয়েছে।

২০২৫ সালে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়ে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৫.৫ শতাংশ। এ সময় দেশটিতে ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন এবং সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার দাঁড়িয়েছে ৪১.২ শতাংশ।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক আশ্রয় একটি গুরুতর আইনি বিষয়। এখানে বাস্তব ঘটনা, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে আবেদন করলে শুধু আবেদনকারীর নিজের ক্ষতি হয় না, দেশের মানুষের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ পথ বেছে নেওয়া জরুরি। মানবপাচারকারী বা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ভুল তথ্য দিয়ে আশ্রয়ের চেষ্টা করলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার