বিজ্ঞাপন
বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরিতে ১ লাখ ডলার ফির পরিকল্পনা ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাস করার পর দেশটিতে চাকরি করার সুযোগ পেতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের গুনতে হতে পারে বিশাল অঙ্কের ফি। ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে, যার অধীনে বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের থেকে নেওয়া হতে পারে ১ লাখ মার্কিন ডলার (বা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা)।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই অনলাইন বিশ্ব ও প্রযুক্তি অঙ্গনে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মেধা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটি মার্কিন অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের আত্মঘাতী পদক্ষেপ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ বা ওপিটি ব্যবস্থার অধীনে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা শেষে নিজ নিজ ক্ষেত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পান।
মূলত (এইচ-১বি) ভিসার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই দেশটির শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ওপিটির মাধ্যমেই সেরা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংস্থায় যুক্ত করে থাকে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই অন্তত ৪ লাখ ১৯ হাজার আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট এই ওপিটি সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন। যদি ১ লাখ ডলারের শুল্ক কার্যকর হয়, তবে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রবণতা ব্যাপকভাবে কমে যাবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি রাজস্বে বড় ধাক্কা দেবে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু (এইচ-১বি) ভিসা আবেদনকারীর ওপর ১ লাখ ডলার ফি চাপানোর চেষ্টা করেছিল।
কিন্তু মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর তীব্র বিরোধিতা এবং বোস্টনের একটি ফেডারেল আপিল আদালতের হস্তক্ষেপে সেই প্রক্রিয়াটি আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত (এইচ-১বি) ফি কাঠামোর আওতা সংকুচিত করে কেবল কিছু সুনির্দিষ্ট কারিগরি বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
আদালতে (এইচ-১বি) সংক্রান্ত সেই পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার পরেই ট্রাম্প প্রশাসন ওপিটি স্কিমকে লক্ষ্য করে নতুন এই পরিকল্পনাটি টেবিলে এনেছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী বিভাগ থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।