বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যের ‘ভিসা স্ট্রিট’ ঘিরে তুমুল বিতর্ক
স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় ৮৪ কর্মী আনার অভিযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যের স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। লন্ডনের হ্যারো এলাকার একটি সড়ক, যেটিকে জিবি নিউজ তাদের প্রতিবেদনে ‘ভিসা স্ট্রিট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, সেখানে অবস্থিত ২৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গত পাঁচ বছরে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার মাধ্যমে অন্তত ৮৪ জন বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি, ভিসা স্পনসরশিপ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জিবি নিউজের জাতীয় প্রতিবেদক চার্লি পিটার্স ওই এলাকায় গিয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এক কর্মীকে প্রশ্ন করেন, স্থানীয় বা ব্রিটিশ কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে কেন বিদেশি কর্মীদের স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় আনা হচ্ছে।
জবাবে ওই কর্মী বলেন, প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় কর্মীরাও কাজ করেন। তবে তিনি দাবি করেন, “স্থানীয় অনেক মানুষ চিকেন শপে কাজ করতে চান না, তাই বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ভিসাধারীরা এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারছেন—এতে তারা সন্তুষ্ট।
প্রতিবেদনে আরেক কর্মী বলেন, তিনি প্রধানত নেপালি কর্মী নিয়োগ দিতে আগ্রহী। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক মানুষ যুক্তরাজ্যে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান এবং এটিকে তাদের “স্বপ্নের দেশ” হিসেবে দেখেন।
চার্লি পিটার্স প্রতিবেদনে বলেন, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার মাধ্যমে একজন কর্মী শুধু নিজেই নন, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তার যোগ্য নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসতে পারেন। তার হিসাব অনুযায়ী, ওই একটি সড়কের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্পনসরশিপের মাধ্যমে সম্ভাব্য মোট অভিবাসীর সংখ্যা কয়েকশ’তে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুন থেকে অধিকাংশ নতুন স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার ক্ষেত্রে ন্যূনতম £৪১,৭০০ বার্ষিক বেতনের শর্ত কার্যকর হয়েছে (কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য)। তবে হ্যারোর ওই এলাকার অনেক প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই বিদেশি কর্মী নিয়োগ করেছিল। ফলে তাদের অনেকেই বর্তমানে দোকান, বিউটি সার্ভিসসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন।
জিবি নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমানে সেলস ও রিটেইল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ক্যাশিয়ার, হেয়ারড্রেসার, বার্বার ও বিউটিশিয়ান-এর মতো পেশাগুলো সাধারণভাবে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার যোগ্য পেশার তালিকায় নেই। তবে পূর্ববর্তী নিয়মে অনুমোদিত কিছু নিয়োগ এখনো বহাল রয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ অভিবাসন ব্যবস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ মনে করেন, স্থানীয়ভাবে কর্মী সংকট থাকায় বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জিবি নিউজের প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ বা দাবি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি এবং হোম অফিসও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেয়নি। এছাড়া প্রতিবেদনে প্রকাশিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজস্ব মতামত; এগুলো সরকারি অবস্থান বা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বিবেচিত নয়।