বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম
তীব্র গরমে এনএইচএসেও বাড়ছে চাপ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:০১ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যে চলতি বছরের গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA)। সংস্থাটির সর্বশেষ অন্তর্বর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধুমাত্র মে ও জুন মাসের দুটি তাপপ্রবাহেই আনুমানিক ২ হাজার ৮৭৭ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৮৫ জন। তবে এখনও আগস্ট মাস শুরু হয়নি, যা সাধারণত বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময় হিসেবে পরিচিত। ফলে চলতি বছর নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইভেট কুপার তাপপ্রবাহে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র গরম হাজারো মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে এবং এর ফলে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS)-এর ওপরও উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি এই কঠিন সময়ে নিরলসভাবে কাজ করা চিকিৎসক, কেয়ার কর্মী এবং জরুরি সেবা কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
UKHSA জানিয়েছে, অতিরিক্ত মৃত্যুর এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে তাপপ্রবাহ চলাকালে মৃত্যুর হারকে স্বাভাবিক সময়ের মৃত্যুর হারের সঙ্গে তুলনা করে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার পর এই সংখ্যা সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সামগ্রিক চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহে অতিরিক্ত ৭৫৩ জন এবং ২১ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত আরেক দফা তীব্র গরমে ২ হাজার ১২৪ জন মারা গেছেন। সব মিলিয়ে মে ও জুনেই অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭৭ জনে, যা ২০২৫ সালের পুরো গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যারও প্রায় দ্বিগুণ।
এদিকে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন আরও দীর্ঘস্থায়ী, ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার থেকে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। জুন মাসের শেষ দিকে পশ্চিম ইউরোপে আঘাত হানা তাপপ্রবাহকে ইতিহাসের অন্যতম তীব্র ও বিস্তৃত তাপপ্রবাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
UKHSA-এর প্রধান পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ড. রস থম্পসন বলেন, নতুন পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে অতিরিক্ত গরম মানুষের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই ব্যক্তি, সমাজ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত হতে হবে এবং বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. গ্যারিফালোস কনস্টান্টিনউডিস বলেন, এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে হাজারো বাস্তব মানুষের জীবনহানির গল্প। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবাসন, কেয়ার হোম এবং অবকাঠামোকে আরও তাপ-সহনশীল করে গড়ে তোলার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে নেট জিরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রচেষ্টা জোরদার করা জরুরি।
এদিকে চলতি বছর ইতোমধ্যে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ডও গড়েছে যুক্তরাজ্য। ইংল্যান্ডের নরফোকের লিংউডে জুন মাসে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কিউ গার্ডেনে মে মাসে ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা নিজ নিজ মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগস্ট মাসেও যদি তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৬ সাল যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে তাপপ্রবাহজনিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম হিসেবে রেকর্ড হতে পারে।