Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে কেয়ার খাত সংস্কারে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকিতে প্রধানমন্ত্রী

বছরে অতিরিক্ত ১৮.৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের আশঙ্কা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

যুক্তরাজ্যে কেয়ার খাত সংস্কারে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকিতে প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা সংস্কারকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্রমবর্ধমান ব্যয়, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপের মধ্যে সরকার এই খাতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সামাজিক পরিচর্যা সেবা পাচ্ছেন না। ফলে পোশাক পরা, গোসল করা, বিছানা থেকে ওঠা কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতেও তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাতেও। অনেক রোগী চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না, কারণ বাড়িতে তাদের প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ব্যবস্থা নেই। এতে হাসপাতালের শয্যা দীর্ঘ সময় দখল হয়ে থাকছে এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এত বড় অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, কেউ মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পদের ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হতে পারে। বিরোধী দল রিফর্ম ইউকের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু হলে একজন গড়পড়তা বাড়ির মালিকের পরিবারের প্রায় ৭৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।

আরেকটি প্রস্তাবে কর্মজীবী মানুষের আয়ের ওপর ১ দশমিক ৮ শতাংশ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কম আয়ের তরুণ কর্মজীবীরা, যারা ইতোমধ্যেই উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যে করের হার ইতোমধ্যেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে সরকারকে আরও প্রায় ১৩০ বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ নিতে হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নতুন করে কর আরোপের যেকোনো সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

সরকার সামাজিক পরিচর্যা সংস্কারে সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে আলোচনা থেকে রিফর্ম ইউকেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টিও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এই সংস্কার পরিকল্পনায় পূর্ণ সমর্থন দেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্য, দীর্ঘমেয়াদি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামাজিক পরিচর্যা খাতে ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকার এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে প্রবীণদের জন্য উন্নত পরিচর্যা নিশ্চিত করার চাপ, অন্যদিকে সেই ব্যয়ের অর্থ জোগাড়ের চ্যালেঞ্জ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার