Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে পিআইপি সুবিধাভোগীদের জন্য আরও সহায়তার ইঙ্গিত সরকারের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ এএম

যুক্তরাজ্যে পিআইপি সুবিধাভোগীদের জন্য আরও সহায়তার ইঙ্গিত সরকারের

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট (PIP) এবং অন্যান্য কর্মক্ষমতা-সম্পর্কিত সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা নিয়ে চলমান পর্যালোচনার মধ্যে কর্মসংস্থান সহায়তা ব্যবস্থায় আরও কার্যকর ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নতুন সরকারের সামনে ক্রমবর্ধমান বেনিফিট ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মক্ষম মানুষকে শ্রমবাজারে ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম “নতুন রাজনৈতিক মডেল” ও “নতুন অর্থনৈতিক মডেল” গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে তাঁর সরকার কী ধরনের কর্মসংস্থান ও কল্যাণমূলক নীতি গ্রহণ করবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার নীতিই আগামী দিনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। এক মিলিয়নেরও বেশি তরুণ শিক্ষা, চাকরি কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে আগামী বছরগুলোতে সরকারি বেনিফিট খাতে ব্যয় আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বেকার থাকা এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইভ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনি ফিলিপসের মতে, কর্মসংস্থান সহায়তাকে শুধু চাকরি খোঁজার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এমন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যা মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে চাকরিতে স্থায়ী হতে সহায়তা করে। তাঁর মতে, যেসব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাস্তবিক অর্থে প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরিতে প্রবেশ এবং সেখানে টিকে থাকার প্রমাণ দিতে পারে, তাদেরই সরকারি অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

তিনি বিশেষভাবে PIP সুবিধাভোগীদের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, প্রতিবন্ধিতা বা স্বাস্থ্যগত কারণে এই ভাতা গ্রহণ করছেন—এমন ব্যক্তিদের প্রায়ই ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাঁর মতে, কেউ PIP পাচ্ছেন মানেই তিনি কাজ করতে অক্ষম—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। আবার একই সঙ্গে কাউকে তাঁর শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতার বাইরে কোনো কাজে বাধ্য করাও উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী উপযুক্ত চাকরি নির্বাচন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা এবং নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বর্তমানে PIP ব্যবস্থা নিয়ে একটি বড় ধরনের পর্যালোচনা পরিচালনা করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান কাঠামোতে পরিচালিত PIP ব্যবস্থা আর পুরোপুরি কার্যকর বা সময়োপযোগী নয় এবং এটি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এই ভাতা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা বা প্রতিবন্ধিতার কারণে অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয় বহনে সহায়তা করে। এটি আয়নির্ভর নয়, ফলে চাকরিতে থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে একজন ব্যক্তি PIP সুবিধা পেতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে শুধু বড় বিনিয়োগ বা শিল্পখাতের উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। বর্তমানে শ্রমবাজারের বাইরে থাকা কিন্তু উপযুক্ত সহায়তা পেলে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা জরুরি। এতে যেমন সরকারি বেনিফিটের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, তেমনি অর্থনীতিতেও নতুন কর্মশক্তি যুক্ত হবে।

সরকার ইতোমধ্যে কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন অনুদানভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে এবং ইয়ুথ গ্যারান্টি ও গ্রোথ অ্যান্ড স্কিলস লেভি কর্মসূচির জন্য অর্থায়নও বৃদ্ধি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অর্থ এমন ব্যক্তিদের জন্য ব্যয় করা উচিত, যাদের শুধু একটি সিভি তৈরির প্রশিক্ষণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যগত বা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমে নিবিড় সহায়তা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা বার্নহাম সরকারের অন্যতম বড় নীতিগত পরীক্ষা হবে। বিশেষ করে PIP পর্যালোচনার ফলাফল এবং কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ভবিষ্যৎ সহায়তা কাঠামো কেমন হবে, সেদিকে এখন নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার