বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশি দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে পেটালেন ভারতীয় চিকিৎসক, অতঃপর...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
ভারতের বেঙ্গালুরুতে স্থানীয় এক চিকিৎসকের হাতে বেদম মারধরের শিকার হয়েছে বাংলাদেশি এক দম্পতি। এ ঘটনায় ড. নাগেন্দ্র নামে স্থানীয় সাই ক্লিনিক-এর ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে, আদালতে তোলার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে গেছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
পুলিশ জানায়, বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ডের কাছাকাছি বেত্তাদাসাপুরা এলাকায় বসবাসকারী ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা বিলাল ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের ওপর এই হামলা চালানো হয়।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এই দম্পতির অভিযোগ, সকালে রাস্তায় দেখা হলে চিকিৎসক নাগেন্দ্র হুট করেই তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা করেন। পরে নাসরিনা বিলালের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে এবং ওই চিকিৎসককে হেফাজতে নেয়।
নিজের অভিযোগে নাসরিনা দাবি করেন, ওই চিকিৎসক তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে মারধর করার আগে তাদের বাংলাদেশি জাতীয়তা নিয়ে হিন্দিতে গালিগালাজ করেন। এরপর ডা. নাগেন্দ্র বিলালের দিকে ফিরে তার মাথায় ও পিঠে বারবার আঘাত করেন এবং তাকে মাটিতে ফেলে বেশ কয়েকটি লাথি মারেন। এমনকি ঘটনাটি কাউকে জানালে তাদের মেরে ফেলার হুমকিও দেন ডা. নাগেন্দ্র।
জিজ্ঞাসাবাদে ডা. নাগেন্দ্র নামে অভিযুক্ত সেই চিকিৎসক জানান, ওই এলাকায় অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের কারণে তিনি সন্দেহবশত ওই দম্পতিকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ মনে করেছিলেন।
তবে, পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্ব বা অবৈধ অনুপ্রবেশসংক্রান্ত কোনও সন্দেহ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত; নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া কিংবা গায়ে হাত তুলে সমাধান করা যায় না।
বর্তমানে ওই বাংলাদেশি দম্পতির ভারতে প্রবেশের কাগজপত্র ও অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি অবস্থা যাচাই করার জন্য তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা। একইসঙ্গে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।