বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে টানা ২৬ দিন অনশনের পর অবশেষে তা ভেঙেছেন জলবায়ু, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তরল খাবার গ্রহণের মাধ্যমে তিনি অনশন শেষ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অনশন ভাঙার সময় শয্যাশায়ী সোনামের পাশে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দুই মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জীতেন্দ্র সিং। এ সময় তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোও পাশে ছিলেন। ভিডিওটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি প্রকাশ করেছে।
সমন্বিত মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গত ২৮ জুন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন সোনাম ওয়াংচুক। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান এ আন্দোলনে তিনি সংহতি প্রকাশ করেন।
অনশন ভাঙার পর ভিডিও বার্তায় সোনাম বলেন, “আমি অনশন ভাঙতে পেরে খুবই কৃতজ্ঞ। গীতাঞ্জলি সবসময় আমার পাশে ছিল। তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই না, আমি শুধু আমার অনুভূতি প্রকাশ করছি।”
দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশনের পর সোনামের এ সিদ্ধান্তকে আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
“পাশাপাশি, আমি আপনাদের সবার প্রতি সহিংসতার প্রতি খুব সতর্ক থাকার আহ্বান জানাব। কোথাও যেন কোনো প্রকার সহিংসতা না হয়।”
অনশন শুরুর পর ২০ তম দিন অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকাতেই ছিলেন সোনাম। ২১ তম দিন শনিবার ভোরের দিকে তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় নালিশ জানিয়ে সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলী দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে নয়াদিল্লির মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিটের প্রশ্নফাঁসের জন্য সিজেপি এবং সোনাম ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনও পদত্যাগ করেননি, তবে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বিনীত যোশীকে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে পঞ্চায়েত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পরেই অনশন ভেঙেছেন তিনি।
মেদান্ত হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত ২৬ দিনের অনশনে সোনামের ওজন ১১ কেজি কমেছে।