বিজ্ঞাপন
৪ বছরে যুক্তরাজ্য পেল ৫ প্রধানমন্ত্রী, পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন বার্নহাম?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৪ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই কাটছে না। বিগত ৪ বছরে মোট ৫ জন প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার মধ্য দিয়ে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী হলো ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট।
কিয়ার স্টারমারের নাটকীয় পদত্যাগের পর সোমবার (২০ জুলাই) লেবার পার্টির অভিজ্ঞ নেতা এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
বাকিংহাম প্যালেসে রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর বার্নহাম জানান, তার সরকার দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তবে বর্তমান ব্রিটিশ রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে দাঁড়িয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— অ্যান্ডি বার্নহাম কি তার পূর্ণ মেয়াদ সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে পারবেন, নাকি পূর্বসূরিদের মতোই মাঝপথে বিদায় নিতে হবে?
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশনস (সিএফআর)-এর এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বার্নহামের ক্ষমতার কেন্দ্রে আসা লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় রূপান্তর। তিনি মূলত বিকেন্দ্রীকরণ এবং আঞ্চলিক পুনর্গঠনের নীতি নিয়ে চলেন। তবে তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি নির্ভর করবে তিনি তার নিজস্ব মন্ত্রিসভা এবং বিভক্ত লেবার এমপিদের কতটা ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারেন তার ওপর।
ব্রিটেনের সংসদীয় ব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতাসীন দল তাদের নেতা পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে দলের ভেতরে একটু অসন্তোষ দানা বাঁধলেই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার নড়েচড়ে ওঠে।
অন্যদিকে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু’র ভাষ্য, বার্নহাম লেবার পার্টির ৪০১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৭৯ জনের বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। এই বিশাল জনসমর্থন এবং জনগণের কাছে তার ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে ইমেজ তাকে প্রাথমিক স্তরে বড় সুবিধা দেবে। দ্য হিন্দুর মতে, অর্থনৈতিক সংস্কার ও কর কাঠামোতে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলে এবং দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে বার্নহামের পক্ষে আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত টিকে থাকা অসম্ভব নয়।