বিজ্ঞাপন
ছেলের হাত ধরে স্বপ্নপূরণ মায়ের: একই মঞ্চে নিলেন ডিগ্রি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
শেখার কোনো বয়স নেই— ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং পরিবারের অনুপ্রেরণা থাকলে জীবনের যেকোনো সময় নতুন স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। ভারতের এক মা-ছেলের অনন্য গল্প সেই সত্যকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ৪৫ বছর বয়সে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে ছেলেের সঙ্গে একই সমাবর্তন মঞ্চে ডিগ্রি গ্রহণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, শিক্ষার যাত্রা কখনো থেমে থাকে না।
ছেলের অনুপ্রেরণায় নতুন পথচলা
ভারতের ৪৫ বছর বয়সী জিগীষা টেলর বহু বছর পর আবার বই হাতে তুলে নেন। তিনি ভারতের আইআইটি মাদ্রাজের ডেটা সায়েন্স প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে সফলভাবে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। সবচেয়ে আবেগঘন বিষয় ছিল, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি তার ২১ বছর বয়সী ছেলে আদিত্য কাপাডিয়ার সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ডিগ্রি গ্রহণ করেন।
একই প্রতিষ্ঠানে মা ও ছেলের শিক্ষাযাত্রা
জানা গেছে, আদিত্য প্রথমে আইআইটি মাদ্রাজের অনলাইন ‘বিএস ইন ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনস’ কোর্সে ভর্তি হন। ছেলের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাতেই জিগীষাও একই প্রতিষ্ঠানের ডেটা সায়েন্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
যদিও মা ও ছেলে ভিন্ন সময়ে তাদের কোর্স শুরু করেছিলেন, তবুও ভাগ্যের সুন্দর মিলনে তাদের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় একই দিনে। ফলে জীবনের এক স্মরণীয় মুহূর্ত তারা একসঙ্গে উদযাপন করার সুযোগ পান।
সংসার সামলে অবিচল অধ্যবসায়
পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে করতেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া জিগীষার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। তিনি প্রতিদিন ভোর সাড়ে চারটায় ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা শুরু করতেন। সকাল সাতটার মধ্যে পড়া শেষ করে গৃহস্থালির কাজ সামলাতেন। এরপর দিনের বিভিন্ন সময়ে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত কাজের জন্য সময় বের করতেন।
তার এই নিয়মিত পরিশ্রম, সময়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তিই শেষ পর্যন্ত তাকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়।
অনুপ্রেরণার এক অনন্য বন্ধন
পড়াশোনার পুরো সময়জুড়ে মা ও ছেলে ছিলেন একে অপরের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। কখনও একসঙ্গে বসে পড়াশোনা করেছেন, আবার কখনও স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একে অপরকে আরও ভালো করার উৎসাহ দিয়েছেন।
তাদের এই ব্যতিক্রমী সম্পর্ক সমাবর্তনের আগেই সহপাঠীদের নজর কাড়ে। পরে এক সহপাঠীর উদ্যোগে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে মঞ্চে ডাকার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।
করতালিতে মুখর স্মরণীয় মুহূর্ত
ডিগ্রি গ্রহণের সেই আবেগঘন মুহূর্তে পুরো অডিটোরিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মা-ছেলের এই বিরল অর্জন সেদিন শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের গল্প ছিল না; এটি ছিল স্বপ্ন, অধ্যবসায় এবং পারিবারিক অনুপ্রেরণার এক জীবন্ত প্রতীক।
জিগীষা টেলর ও তার ছেলে আদিত্য কাপাডিয়ার গল্প আমাদের শেখায়, শেখার জন্য বয়স কোনো বাধা নয় এবং সত্যিকারের অনুপ্রেরণা অনেক সময় নিজের পরিবার থেকেই আসে। দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং পারস্পরিক উৎসাহ থাকলে অসম্ভব বলেও কিছু থাকে না। এই মা-ছেলের অনন্য অর্জন শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, বরং প্রতিটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্বপ্নবাজ মানুষের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।