বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যে বিনামূল্যে এয়ারকন্ডিশনার: সরকারের বয়লার আপগ্রেড স্কিম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
তীব্র তাপপ্রবাহে দেশজুড়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় ঘর শীতল রাখার চিন্তায় পড়েছেন অনেকেই। এমন সময়ে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকারের একটি স্বল্প-পরিচিত প্রকল্পে বিনামূল্যে এয়ারকন্ডিশনার-সমতুল্য যন্ত্র পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বয়লার আপগ্রেড স্কিম (BUS) নামের এই প্রকল্পের আওতায় সরকার এয়ার-টু-এয়ার হিট পাম্প ইনস্টলের জন্য সর্বোচ্চ ২,৫০০ পাউন্ড অনুদান দিচ্ছে। গ্রীষ্মকালে এটি সাধারণ এয়ারকন্ডিশনারের মতো ঘর ঠান্ডা করে, আবার শীতকালে বাইরের ঠান্ডা বাতাস গরম করে ঘর উষ্ণ রাখে।
এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইসিআইইউ) এর তথ্য অনুসারে, গত মে মাসে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর মাত্র ৪৫টি পরিবার এই অনুদান গ্রহণ করেছে। অথচ তহবিল রয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের জন্য। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক যোগ্য পরিবার এখনও এই সুবিধা সম্পর্কে জানেন না বা আবেদন করেননি।
এনার্জি কনজিউমার্স বিষয়ক মন্ত্রী মার্টিন ম্যাকক্লাস্কি বলেন, “এই হিট পাম্পগুলো ভোক্তাদের সেরা উভয় জগতের সুবিধা দেয় — গ্রীষ্মে শীতলতা, শীতে উষ্ণতা।”
একটি রুমের জন্য এই সিস্টেমের বাজারমূল্য প্রায় ১,৯০০ পাউন্ড এবং তিন বেডরুমের বাড়ির জন্য প্রায় ৩,৭০০ পাউন্ড। অনুদান পেলে অনেক ক্ষেত্রেই ইনস্টলেশন খরচ অনেকাংশে বা পুরোপুরি কমে যাবে।
যোগ্যতা
– যেকোনো বাড়ির মালিক (হোমওনার) আবেদন করতে পারবেন।
– পুরনো ফসিল ফুয়েল বা সাধারণ ইলেকট্রিক হিটিং সিস্টেম প্রতিস্থাপন করতে হবে।
– নতুন নির্মিত বাড়ি, সামাজিক আবাসন এবং যাদের আগে সরকারি অনুদানে হিট পাম্প বা বায়োমাস বয়লার দেওয়া হয়েছে, তারা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না।
– আয়ের কোনো সীমা নেই।
আবেদন প্রক্রিয়া
আবেদনকারীদের প্রথমে MCS সার্টিফাইড ইনস্টলার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ইনস্টলার যোগ্যতা যাচাই করে Ofgem ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করবেন। অনুমোদিত অনুদান সরাসরি ইনস্টলেশন খরচ থেকে বাদ যাবে।
বিস্তারিত তথ্য ও যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য GOV.UK ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্প শুধু ঘর ঠান্ডা রাখার সমাধান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব গরম করার উপায়ও বটে। তবে সচেতনতার অভাবে প্রকল্পটি এখনও ‘লার্জলি আনক্লেইমড’ অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে, বিশেষ করে যারা পুরনো হিটিং সিস্টেম ব্যবহার করছেন।