বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের টানা দ্বিতীয় রাতের বিমান হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। নতুন এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় রাতের মতো দেশটির বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালানোর পর তারা বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে থাকা ‘মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত কেন্দ্রগুলোকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এদিকে হরমুজ প্রণালির আশপাশের বুশেহর, চাবাহার, বান্দার আব্বাস ও সিরিক শহরে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তারা খুব করেই একটি চুক্তি করতে চায়।’
তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্পও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে খোলা রয়েছে।
অন্যদিকে লেবানন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘লেবাননে প্রবেশের জন্য আমরা কারও অনুমতি চাইনি, সেখানে থাকার জন্যও আমাদের কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। গ্যালিলি অঞ্চলের বাসিন্দা ও ইসরায়েলের নাগরিকদের হুমকি থেকে রক্ষা করা আমাদের অধিকার এবং দায়িত্ব।’
কাটজ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং আমি আগেই পরিষ্কার করেছি, লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে আমরা অবস্থান অব্যাহত রাখব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকেই অভিযান চালাব। পুরো লেবাননে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ওপর থেকে হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান বজায় থাকবে।’
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের হামলা পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করে, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সব পক্ষের উচিত সংলাপ ও কূটনীতির পথ অনুসরণ করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা।’
এছাড়া তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নেওয়া সব উদ্যোগকে কাতার সমর্থন করে। এমন একটি চুক্তিই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।’