বিজ্ঞাপন
এফবিআইয়ের তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপ চলাকালেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। সংস্থাটির আর্থিক লেনদেন, স্পন্সরশিপ আয় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং দেশটির বিচার বিভাগ। তদন্তে অর্থ পাচার, ওয়্যার জালিয়াতি ও সম্ভাব্য কর ফাঁকির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসি ও মায়ামির ফেডারেল প্রসিকিউটররা তদন্তে অংশ নিয়েছেন। তারা খতিয়ে দেখছেন, এএফএর আন্তর্জাতিক স্পন্সরশিপ ও বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে আসা শত শত মিলিয়ন মার্কিন ডলার কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর হয়েছে এবং এসব লেনদেনে মার্কিন আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বাণিজ্যিক আয় ও বিপণন-সংক্রান্ত আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করত প্রতিষ্ঠানটি।
লা নাসিওন গোপন ব্যাংকিং নথির বরাত দিয়ে দাবি করেছে, এএফএর অন্তত ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার কয়েকটি শেল কোম্পানির মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো দৃশ্যমান ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা কর্মচারী ছিল না।
তদন্তকারীরা বর্তমানে ক্রীড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এর অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে আর্জেন্টাইন ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনির সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তাকেও সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। তদন্তকারীদের ধারণা, এএফএর কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসির মালিক হাভিয়ের ফারোনি ও তার স্ত্রী এরিকা জিলেট যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ব্যাংকের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলারের লেনদেন পরিচালনা করেছেন। ব্যাংকগুলো হলো সিটিব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগ্যান এবং পিএনসি ব্যাংক।
এসব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এএফএর অন্তত ২৬ কোটি মার্কিন ডলারের আয় পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অর্থের একটি বড় অংশের আর্থিক যৌক্তিকতার স্পষ্ট ব্যাখ্যা তদন্তকারীরা এখনো পাননি।
এ ছাড়া অ্যাডিডাস ও ওয়ার্নারের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এএফএর আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থও ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, কর পরিশোধের পর আন্তর্জাতিক আয়ের ৩০ শতাংশ এবং অতিরিক্ত ১০ শতাংশ লজিস্টিক কমিশন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব আর্থিক নথিই বর্তমানে এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বিশ্লেষণ করছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির দাবি, ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসির সঙ্গে তাদের বৈধ ও কার্যকর চুক্তি রয়েছে এবং সেটি আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
এএফএর ভাষ্য, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ।
তবে এখন পর্যন্ত তদন্তটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলও প্রকাশ করেনি।