বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যে নতুন আবাসন প্রকল্পে আশ্রয়প্রার্থী স্থানান্তর স্থগিত
পিছু হটল হোম অফিস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে শ্রপশায়ারের স্টোক হিথ এলাকায় সদ্য নির্মিত একটি নতুন আবাসন প্রকল্পে ৮৩ জন আশ্রয়প্রার্থীকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে দেশটির হোম অফিস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড মূল্যের নতুন নির্মিত একটি আবাসিক এলাকায় আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব বাড়ি মূলত এলাকার আবাসন সংকটে থাকা পরিবারগুলোর জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় জনগণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি।
এই পরিস্থিতির পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পরিকল্পনাটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থী আবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সরকার ধীরে ধীরে নতুন আবাসিক প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে একত্রে রাখার নীতি থেকে সরে এসে অপেক্ষাকৃত কম ঘনত্বের এবং বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আবাসনের একটি নতুন কাঠামোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি উত্থাপিত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল ২০২৬-এর আলোকে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য এসব বিধিমালায় কোনো সম্পত্তি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কাউন্সিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে পরামর্শ করার বিধান থাকতে পারে।
এদিকে, নতুন নীতিমালার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য চিহ্নিত বিভিন্ন সম্পত্তি ও আবাসন প্রকল্প সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে সেগুলোর পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সরকারের এই সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া, আবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা।
তবে উল্লেখ্য, নতুন বিধিমালা বা সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা চূড়ান্ত আইন কার্যকর হয়নি। ফলে এসব প্রস্তাব সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই বাস্তবায়নের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য আইনগত পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল, স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।