Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত তলানিতে, তবু কমছে দাম

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত তলানিতে, তবু কমছে দাম

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। স্বাভাবিকভাবে এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে ঠিক উল্টোটা। একদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে বাজারে তৈরি হয়েছে সতর্ক আশাবাদ। ফলে সরবরাহ সংকুচিত হলেও তেলের দাম নিম্নমুখী রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে আরও ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার ফলে মোট মজুত কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেলে। এটি ১৯৮৩ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। ইরান যুদ্ধের পর বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলা এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসপিআর থেকে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই মজুত কমানো হচ্ছে।

শুধু কৌশলগত মজুতই নয়, শক্তিশালী রপ্তানি এবং রিফাইনারিগুলোর উচ্চ চাহিদার কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুতও দ্রুত কমেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত—দুই ধরনের মজুত মিলিয়ে দেশটির মোট তেল মজুত ১১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল কমে ১৯ জুন পর্যন্ত ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। এটি ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়।

তবে সরবরাহ কমে গেলেও তার প্রভাব তেলের দামে উল্টোভাবে পড়ছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমেছে। এতে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বাজার নিম্নমুখী থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।

আগস্ট ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত মাসের সমাপনী দামের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মে মাসের শেষের তুলনায় ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যপতনের প্রধান কারণ সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রত্যাশা। চার মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার আশাবাদ বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বাজার এখনো পুরোপুরি স্বস্তিতে ফিরেনি। তবে উত্তেজনা কমার বাস্তব ইঙ্গিতের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। তবে একই সঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীনের দুর্বল চাহিদা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদক দেশগুলো তেল ও এলএনজি রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক জাহাজে হামলা এবং নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার