বিজ্ঞাপন
বার বার অপরাধ করলে সুরক্ষামর্যাদা দেবে না জার্মানি
ইনফোমাইগ্রেন্টস
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
বিজ্ঞাপন
জার্মানির লাইপসিশের ফেডারেল প্রশাসনিক আদালত ঘোষণা করেছে, তারা এমন কাউকে সহায়ক সুরক্ষা বা আশ্রয় দেবে না যিনি বারবার আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং জনসাধারণের জন্য হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারেন।
জার্মানির ফেডারেল প্রশাসনিক আদালত শুক্রবার (২৬ জুন) ঘোষণা করেছে, একজন শরণার্থীকে সুরক্ষা মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে কারণ তিনি বারবার আইন লঙ্ঘন করেছেন। ফলে জনসাধারণের ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছেন তিনি।
একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফেডারেল প্রশাসনিক আদালত বলেছে, ‘‘আশ্রয় আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো অনুযায়ী, যদি এমন বড় কোনো কারণ থাকে যাতে ওই বিদেশি নাগরিক জনসাধারণের জন্য হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে তাকে সহায়ক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হবে।’’
এই শরণার্থী সিরীয় নাগরিক। ২০১৭ সালের জুন মাসে জার্মানি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, একাধিক অপরাধমূলক কাজ করেছেন তিনি। ১০টিরও বেশি মামলায় তাকে জরিমানা এবং কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের অক্টোবরে ফেডারেল মাইগ্রেশন ও শরণার্থী অফিস (বিএএমএফ) তার সহায়ক সুরক্ষা মর্যাদার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
জার্মানিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) অনুযায়ী, এ দেশে নানা ধরনের আশ্রয় সুরক্ষা দেওয়া হয়, যার নিজস্ব মানদণ্ড এবং অধিকার রয়েছে।
ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজিস (বিএএমএফ) একটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসারে নির্ধারণ করে, কোন আবেদনকারীর জন্য এর মধ্যে কোন নির্দিষ্ট সুরক্ষাগুলো প্রযোজ্য। এই সিদ্ধান্ত আবেদনকারীর দেশে ফিরে যাওয়ার অযোগ্যতার কারণের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়।
সহায়ক সুরক্ষার অর্থ হলো, আবেদনকারী ‘রাজনৈতিক নির্যাতন সংক্রান্ত হুমকির মুখে না পড়লেও তার মাতৃভূমিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।"
সহায়ক সুরক্ষার আওতায়, একজন শরণার্থীর বাসস্থানের অনুমতি পাওয়ার অধিকার থাকে, যা তাকে অন্তত এক বছর জার্মানিতে বসবাসের অনুমতি দেয়। যদি আবেদনকারীর মাতৃভূমির পরিস্থিতি এই সময়ের মধ্যে উন্নত না হয়, তাহলে বাসস্থানের অনুমতি আরও দুই বছর বাড়ানো যেতে পারে।
জার্মানিতে সিরীয়রা অন্যতম বৃহত্তম অভিবাসী গোষ্ঠী। ২০১১ সালে সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, লাখো সিরীয় নাগরিক তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান, ইরাক এবং মিশরের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে জার্মানিতে আশ্রয় আবেদন করেছিলেন তিন লাখ ২০ হাজারের বেশি সিরীয়।
জার্মানির ফেডারেল পরিসংখ্যান অফিসের মতে, ২০২৩ সালের শেষে জার্মানিতে প্রায় নয় লাখ ৭৩ হাজার সিরীয় বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে প্রায় সাত লাখ ১২ হাজার জনকে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে রয়েছেন আবেদন মুলতুবি রয়েছে এমন শরণার্থীরা এবং যাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও মানবিক কারণে অস্থায়ী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এমন শরণার্থীরা।