বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যে শরণার্থী স্পনসরশিপ ভিসা চালুর ঘোষণা, আবেদন শুরু এ বছর
বিবিসি
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ শরণার্থীদের জন্য একটি নতুন 'নিরাপদ ও বৈধ' স্পনসরশিপভিত্তিক প্রবেশপথ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগকে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শরৎ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, কমিউনিটি সংগঠন এবং গির্জাগুলো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আনার জন্য স্পনসর হতে পারবে। পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই সুযোগ দেওয়া হবে।
এই কর্মসূচি কানাডার সফল কমিউনিটি স্পনসরশিপ মডেলের আদলে তৈরি করা হচ্ছে, যা বিশ্বে অন্যতম কার্যকর শরণার্থী পুনর্বাসন ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। আবেদনকারীদের যোগ্যতা নির্ধারণে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (UNHCR) সহযোগিতা নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আগে কঠোর নিরাপত্তা ও পটভূমি যাচাই করা হবে এবং স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলো শরণার্থীদের বাসস্থান, কর্মসংস্থান ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে।
আগামী বছর নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্য আলাদা কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবেশপথ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আবেদন এ বছরের শেষ দিকে শুরু হবে এবং প্রথম শরণার্থীরা ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবেন বলে সরকার জানিয়েছে।
নতুন পরিকল্পনার ব্যাখ্যায় শাবানা মাহমুদ বলেন, প্রকৃত যুদ্ধ ও নির্যাতনের শিকার শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশ্রয়ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য। তার ভাষায়, ব্রিটেন মানবিক আশ্রয়ের ঐতিহ্য বজায় রাখবে, তবে সেই ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত, ন্যায্য এবং জনআস্থাসম্পন্ন হতে হবে।
নতুন বৈধ পথ চালুর পাশাপাশি আশ্রয় আইনে কঠোরতাও আনা হচ্ছে। মানবাধিকার আইনে পারিবারিক জীবনের অধিকার সংক্রান্ত বিধান সীমিত করা, আধুনিক দাসত্ববিরোধী আইনের সুরক্ষা পাওয়ার শর্ত কঠোর করা এবং ভুয়া আশ্রয় আবেদন দমনে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি সরকারের এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, অবৈধ অভিবাসন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো মানবিক প্রবেশপথ চালু করা উচিত নয়। তাদের মতে, এই উদ্যোগ ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বন্ধ করতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কঠোর অভিবাসন নীতি, অন্যদিকে নতুন বৈধ প্রবেশপথ চালুর ঘোষণা — শাবানা মাহমুদের এই দ্বিমুখী কৌশল বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য এই নতুন পদ্ধতি একটি ইতিবাচক সংকেত বহন করছে, কারণ বৈধ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোই এই নীতির মূল বার্তা।