Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পেছনে কী এই ‘ওমেগা ব্লক’?

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পেছনে কী এই ‘ওমেগা ব্লক’?

বিজ্ঞাপন

পশ্চিম ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। ফ্রান্সে এ পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক গরমের পেছনে কাজ করছে ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি।

‘ওমেগা ব্লক’ নামটি এসেছে গ্রিক বর্ণমালার ‘ওমেগা’ (Ω) অক্ষরের আকৃতি থেকে। এ অবস্থায় উষ্ণ ও স্থিতিশীল উচ্চচাপ বলয় দুটি শীতল নিম্নচাপ বলয়ের মাঝখানে আটকে পড়ে, যা দেখতে ওমেগা চিহ্নের মতো লাগে।

সাধারণত জেট স্ট্রিম বা বায়ুমণ্ডলের শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবহাওয়া ব্যবস্থা সরিয়ে নেয়। কিন্তু ওমেগা ব্লকের সময় এই প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চচাপ বলয় দীর্ঘ সময় একই স্থানে আটকে থাকে।

ফলে কোনো এলাকায় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। আকাশে মেঘ কম থাকে এবং সূর্যের তাপ সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়। এতে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে ফ্রান্স ও স্পেনের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে উচ্চচাপ বলয়ের দুই পাশে থাকা নিম্নচাপ অঞ্চলে তুলনামূলক শীতল ও বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়া দেখা যায়।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তীব্র গরম অনুভূত হলেও উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক ঠান্ডা ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর কারণ দেশটি উষ্ণ উচ্চচাপ ও শীতল নিম্নচাপ বলয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ওমেগা ব্লক সাধারণত তিন থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। তবে কখনও কখনও এটি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্তও থাকতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ওমেগা ব্লকের সংখ্যা বাড়ছে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য নেই। তবে তারা একমত যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপপ্রবাহের ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউজ গ্যাস পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার