Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

আইএলআর বাতিল বিদেশিদের জন্য বাড়তি কর—কঠোর পরিকল্পনা নিয়ে রিফর্মের

Icon

দ্য টেলিগ্রাফ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

আইএলআর বাতিল বিদেশিদের জন্য বাড়তি কর—কঠোর পরিকল্পনা নিয়ে রিফর্মের

বিজ্ঞাপন

বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের চাকরির বাজারে অগ্রাধিকার দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে। দলটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সস্তা অভিবাসী শ্রমের কারণে ব্রিটিশ কর্মীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছেন এবং এ পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।

সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিফর্ম ইউকের অর্থনীতি বিষয়ক মুখপাত্র রবার্ট জেনরিক জানান, ক্ষমতায় এলে দলটি ব্যবসায়িক কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। প্রস্তাবিত নীতির আওতায় ব্রিটিশ কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাদের ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কন্ট্রিবিউশন (এনআইসি) কমিয়ে দেওয়া হবে। তবে বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে বর্তমান হার বহাল থাকবে।

এর পাশাপাশি চালু করা হবে নতুন “এমপ্লয়ার্স মাইগ্রান্ট লেবার লেভি”, যার ফলে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জেনরিক বলেন, “আমরা ব্রিটিশ কর্মীদের প্রথমে এবং অভিবাসীদের দ্বিতীয় স্থানে রাখব। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ কর্মীরা সস্তা অভিবাসী শ্রমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর ফলে মজুরি কমেছে এবং জীবনযাত্রার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।”

তিনি দাবি করেন, নিম্নদক্ষ অভিবাসনের কারণে সরকারি সেবা খাতের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষায়, জিপি সার্জারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসন ব্যবস্থা এবং সড়ক অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই অভিবাসনের প্রভাব পড়েছে।

রিফর্মের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীদের জন্য আরোপিত নতুন করের হার তাদের আয়ের ওপর নির্ভর করবে। জাতীয় জীবিকা নির্বাহযোগ্য মজুরিতে কর্মরত পূর্ণকালীন একজন বিদেশি কর্মীর জন্য বছরে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ পাউন্ড অতিরিক্ত কর আরোপ করা হতে পারে। যাদের বার্ষিক আয় ৫০ হাজার পাউন্ড, তাদের ক্ষেত্রে এ হার ১ হাজার ৫০০ পাউন্ড এবং ১ লাখ পাউন্ড আয়কারীদের জন্য ৫০০ পাউন্ড নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জেনরিকের মতে, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও বিশেষায়িত বিদেশি কর্মীদের জন্য করের হার তুলনামূলক কম রাখা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মানের জনবল নিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলো নিরুৎসাহিত না হয়।

রিফর্ম ইউকের দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। সেই অর্থ ব্যবহার করে ব্রিটিশ কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাদের ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স অবদান কমানো হবে।

জেনরিক আরও বলেন, “এই কর বিশেষভাবে সস্তা অভিবাসী শ্রমকে নিরুৎসাহিত করবে এবং তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ব্যবসাগুলোকে ব্রিটিশ নাগরিকদের নিয়োগ দিতে উৎসাহিত করবে।”

এদিকে, সমতা আইনের ভিত্তিতে এ ধরনের নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রিফর্ম ইউকে জানিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট বাতিলের উদ্যোগ নেবে, ফলে এ ধরনের আইনি বাধা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক সরকারি সংস্থাগুলোর সমতা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা বাতিলের কথা বললেও পুরো সমতা আইন বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেননি।

বিদেশি কর্মীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে রিফর্ম নেতা নাইজেল ফারাজ ইতোমধ্যে পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পর পাওয়া ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন। এর পরিবর্তে পাঁচ বছর মেয়াদি নবায়নযোগ্য ভিসা চালুর কথা বলা হয়েছে, যেখানে উচ্চ বেতনসীমা এবং ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত যুক্ত করা হবে।

এছাড়া অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য নতুন “অ্যাকিউট স্কিলস ভিসা” চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিপরীতে অন্তত একজন ব্রিটিশ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

রিফর্ম ইউকের এসব প্রস্তাব ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি ব্রিটিশ নাগরিকদের কর্মসংস্থান রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের নীতি শ্রমবাজারে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে এবং অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার