বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যের বেলফাস্টে সহিংসতা : অভিবাসী হামলার পর আগুন-ভাঙচুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
ব্রিটেনে ভয়াবহ এক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বেলফাস্টসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীবিরোধী দাঙ্গা দেখা দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে ঘটে যাওয়া একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনায়। এরপর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক সুদানি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি রাস্তায় এক ব্যক্তির ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছেন এবং তাকে শিরশ্ছেদের চেষ্টা করেছেন।
সেই সময় আশপাশের মানুষ আহত ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। এর পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার শিকার ব্যক্তি ছিলেন ৪০-এর কোঠার একজন পুরুষ। তিনি সোমবার গভীর রাতে আক্রমণের শিকার হন।
তার চোখ, মুখ ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ এই ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাশাপাশি জনসমক্ষে ছুরি বহন এবং হত্যার হুমকির অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনার পরপরই উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। অনেক বিক্ষোভকারী মুখ ঢেকে অংশ নেন। এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কিছু এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। বাস, গাড়ি এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাস্তা অবরোধ করা হয় এবং বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ আগুনে জ্বলতে থাকা বাড়ি থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে অনেকেই কৃষ্ণাঙ্গ ছিলেন।
বেলফাস্টে প্রায় দেড় বছর ধরে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী ইমরান বলেন, সন্ধ্যার দিকে জনমানুষ ডাস্টবিনে আগুন দিতে শুরু করে। এরপর পুলিশ গাড়ি ও সাইরেনের শব্দ শোনা যায়।
তিনি আরো বলেন, ধীরে ধীরে আরো মানুষ জড়ো হয়। তারা পেট্রল বোমা ছুড়তে শুরু করে। হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ভেতরে ধোঁয়া ঢুকে যায়। পরে দমকল এসে তাদের নিচে নামতে বলে।
এক মাস আগে বেলফাস্টে আগত চিলির নাগরিক কামিলা ঘটনাটিকে ভয়ংকর বলে বর্ণনা করেন।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও'নেইল এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, মুখোশ পরে পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে আগুন লাগানো ‘ঘৃণ্য কাপুরুষতা’। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্ণবাদ ও সহিংসতার কোনো অজুহাত থাকতে পারে না।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার এই ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন।
এ ঘটনার পেছনে আগে থেকেই চলমান অভিবাসন ইস্যুতে উত্তেজনা বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ব্রিটেনে অভিবাসন নীতি নিয়ে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। সরকার নিশ্চিত করেছে, হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন সুদানি শরণার্থী। তার আবাসনের অনুমতি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৈধ ছিল। উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশের প্রধান জানান, তিনি ২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্যারিস ও আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। আগে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য শেয়ার করেন। এ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা আরো বাড়ে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী নাওমি লং সতর্ক করে বলেন, কিছু মানুষ এই ঘটনাকে ব্যবহার করে জনগণের ক্ষোভকে উসকে দিচ্ছে এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের পরিস্থিতি বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে, তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
বিরোধী দল এসডিএলপি নেতা ক্লেয়ার হান্না এই ঘটনাকে ‘বর্ণভিত্তিক গণসহিংসতা’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, যারা অনলাইনে উসকানি দিচ্ছে, তারা পরে সরে যাবে, কিন্তু ক্ষতি সামলাতে হবে সাধারণ মানুষকে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সহিংসতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।