বিজ্ঞাপন
এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার ও ২১ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
বিজ্ঞাপন
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারগুলোসহ প্রায় ২১টি মার্কিন বিমান ও নৌ ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার আইএসএনএ এ খবর জানিয়েছে।
আইআরজিসিকে উদ্ধৃত করে ইরানের এই সম্প্রচার মাধ্যমটি জানায়, চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে জর্দানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারও রয়েছে। এ ছাড়া এই অঞ্চলে মোট ২১টি বিমান ও নৌ ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
আইএসএনএ-এর মতে, জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম প্রেস টিভি কুয়েত ও বাহরাইনে নতুন বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই দুটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো আবারও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বাহরাইনে একটি মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলার দায়ও আইআরজিসি স্বীকার করেছে।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি ঘোষণা করেছে, স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ২ টা ৩০ মিনিটে তাদের নৌবাহিনী বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
দিনের শুরুতে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়।
এদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ শুরু করেছে।
এক্স-এ পোস্ট করা এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, ‘গতকাল মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে, সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা শুরু করেছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে নিশ্চিত করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর টহলরত একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এই ঘটনায় উভয় পাইলটই অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমাদের মহান সামরিক বাহিনী আমাকে এইমাত্র জানিয়েছে, গত রাতে হরমুজ প্রণালির ওপর টহল দেওয়ার সময় ইরানিরা আমাদের একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো যোগ করেন, ‘হেলিকপ্টারে দুজন পাইলট ছিলেন। তারা দুইজনেই নিরাপদ ও অক্ষত আছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে এই হামলার জবাব দিতেই হবে।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে ইরান পাল্টা জবাব দেবে। এক্স-এ একটি পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, ‘রণক্ষেত্রে পরাজয় সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সংকল্প পরীক্ষা করার পথ বেছে নিয়েছে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যান। পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে অনুপ্রবেশকারী বহিরাগতদের ভয়াবহ পরিণতির ঘটনা ঘটেছে।’