বিজ্ঞাপন
আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নীতিতে বড় ধাক্কা
হোম অফিসের সিদ্ধান্ত বাতিল করল ব্রিটিশ আদালত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যের হোম অফিস নির্যাতন, মানবপাচার এবং অন্যান্য গুরুতর সহিংসতার শিকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা আবাসন সুরক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি কাজ করেছে বলে রায় দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আইনি চ্যালেঞ্জের পর এই গুরুত্বপূর্ণ রায় আসে।
সম্প্রতি দেওয়া রায়ে আদালত বলেন, হোম অফিস সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সংগঠনগুলোর সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ না করেই আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন বণ্টন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। একই সঙ্গে এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তাও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
মামলাটি দায়ের করেছিল নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফ্রিডম ফ্রম টর্চার এবং মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তাকারী হেলেন ব্যাম্বার ফাউন্ডেশন। আদালত তাদের অভিযোগের পক্ষে রায় দিয়ে হোম অফিসের নীতিগত পরিবর্তনগুলো বাতিল ঘোষণা করেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোম অফিস তাদের ‘অ্যালোকেশন অব অ্যাসাইলাম অ্যাকোমোডেশন’ নীতিমালার ১১তম সংস্করণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। এর ফলে আগে যেসব নির্যাতন, মানবপাচার বা গুরুতর সহিংসতার শিকার আশ্রয়প্রার্থীদের একক কক্ষ বা বিশেষ বিবেচনায় আবাসন দেওয়ার সুযোগ ছিল, তা অনেকাংশে সীমিত হয়ে যায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব পরিবর্তনের কারণে অনেক ভুক্তভোগীকে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতে বাধ্য করা হয়। এতে তাদের অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি ফিরে আসে এবং মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে আত্মক্ষতির ঝুঁকি এবং গুরুতর মানসিক সংকটও তৈরি হতে পারে।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, হোম অফিস দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আসছিল। কিন্তু নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সময় সেই প্রচলিত পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া সমতা আইনের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়নের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।
ফ্রিডম ফ্রম টর্চার এক বিবৃতিতে জানায়, নির্যাতন ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিরা পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মধ্যে অন্যতম। তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আদালতের এই রায় তাদের অধিকার রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ।
অন্যদিকে হেলেন ব্যাম্বার ফাউন্ডেশন বলেছে, হোম অফিসের এই নীতিগত পরিবর্তন বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছিল। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে এখন ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ও প্রমাণভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নীতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পরামর্শ এবং মানবাধিকারের বিষয়গুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ—সেটিও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
হোম অফিসের পক্ষ থেকে এখনও পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাতিল হওয়া নীতিগত পরিবর্তনগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতামত গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
এই রায়কে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা।