Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নতুন আশা, গবেষণায় মিলল ইতিবাচক ফল

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নতুন আশা, গবেষণায় মিলল ইতিবাচক ফল

বিজ্ঞাপন

টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নতুন আশার খবর দিয়েছেন গবেষকরা। সপ্তাহে একবার নেওয়া নতুন একটি ইনজেকশন রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোর পাশাপাশি শরীরের ওজনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক ফেজ-৩ ট্রায়ালের ফলাফলে এই তথ্য উঠে এসেছে। পরীক্ষামূলক ওষুধটির নাম রেটাট্রুটাইড। গবেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও স্থূলতা চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৯৩০ জনের ওপর চালানো হয় গবেষণা। গবেষণায় টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্করা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের ৪০ সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মাত্রায় রেটাট্রুটাইড অথবা প্লাসেবো ইনজেকশন দেওয়া হয়।

গবেষকরা দেখেছেন, যারা রেটাট্রুটাইড নিয়েছেন তাদের HbA1c মাত্রা গড়ে ১ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমেছে। HbA1c হলো দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করার গড় মাত্রা পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

অন্যদিকে প্লাসেবো নেওয়া অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই কমার হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট।

ওজন কমাতেও মিলেছে বড় সাফল্য

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ওজন কমার বিষয়টি।

রেটাট্রুটাইড নেওয়া অংশগ্রহণকারীদের শরীরের ওজন গড়ে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তুলনায় প্লাসেবো গ্রুপে ওজন কমেছে মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল স্থূলতা ও ডায়াবেটিস একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

কীভাবে কাজ করে এই ওষুধ

বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক ডায়াবেটিস ওষুধ এক বা দুটি হরমোনের ওপর কাজ করে। তবে রেটাট্রুটাইড একসঙ্গে তিনটি হরমোনকে প্রভাবিত করে।

এটি GLP-1, GIP এবং গ্লুকাগন নামের হরমোনের কার্যক্রম অনুকরণ করে। এই তিনটি হরমোন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, বিপাকক্রিয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষকদের ধারণা, এই কারণেই ওষুধটি ওজন ও রক্তে শর্করা কমাতে শক্তিশালী প্রভাব দেখিয়েছে।

দ্রুত ওজন কমানোর ইনজেকশন কতটা নিরাপদ, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরাweight loss treatment

আরও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন

গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেকের কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপের অবস্থারও উন্নতি দেখা গেছে।

তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ছিল। ১৪ জনের মধ্যে গুরুতর জটিলতা দেখা গেলেও গবেষকরা জানিয়েছেন, বেশির ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল মৃদু বা মাঝারি মাত্রার এবং সময়ের সঙ্গে কমে গেছে।

সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর মধ্যে ছিল বমিভাব এবং হজমজনিত অস্বস্তি।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা এই ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক বলে মনে করলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, ওষুধটি কার্যকর হলেও এটি একমাত্র সমাধান নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্থূলতা প্রতিরোধ এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ ছাড়া বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ যেমন সেমাগ্লুটাইড বা টিরজেপাটাইডের সঙ্গে রেটাট্রুটাইডের সরাসরি তুলনামূলক গবেষণা এখনও হয়নি। তাই এটি অন্য ওষুধের চেয়ে ভালো নাকি সমমানের, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় ভোগা অনেক মানুষের জন্য এই ওষুধ ভবিষ্যতে বড় সহায়তা হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার