বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পের নীতি বাতিল, ৩৯ দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরা পেলেন সুখবর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১১ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নেওয়া বেশ কিছু অভিবাসীবিরোধী বেআইনি নীতি বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। এতে দেশটিতে অভিবাসন প্রত্যাশীরা নতুন করে সুযোগ পেয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিগুলোর কারণে বিশ্বের ৩৯টি দেশের মানুষের রাজনৈতিক আশ্রয়, ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের আবেদনের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পথ আটকে গিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীরা বড় সুখবর পেয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নেওয়া বেশ কিছু অভিবাসীবিরোধী বেআইনি নীতি বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিগুলোর কারণে বিশ্বের ৩৯টি দেশের মানুষের রাজনৈতিক আশ্রয়, ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের আবেদনের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পথ আটকে গিয়েছিল।
শুক্রবার (৫ জুন) রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সের চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) কর্তৃক গৃহীত এই নীতিগুলো বাতিল ঘোষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক বলেন, এই নীতিগুলো আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ডজনখানেক দেশের মানুষকে এক ‘অনির্দিষ্টকালের আইনি অনিশ্চয়তার’ মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।
বিচারক জন ম্যাককনেল তার রায়ে উল্লেখ করেন, অভিবাসীরা কংগ্রেসের তৈরি করা এবং ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সব আইনি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে মেনে চলেছিলেন। তা সত্ত্বেও তারা মাসের পর মাস ধরে এমন কিছু সুবিধার আবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা ইউএসসিআইএস নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, সংস্থাটি কোনো সংবিধিবদ্ধ এবং নিয়মতান্ত্রিক কর্তৃত্ব ছাড়া শুধু ‘অভিবাসী-বিরোধী মনোভাবের ওপর ভিত্তি করে’ এই নীতিগুলো গ্রহণ করেছে। এসব নীতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা আইনত নিষিদ্ধ। ইউএসসিআইএসের আবেদন আটকে রাখার পেছনে এই ব্যক্তিদের কোনো ভুল ছিল না; বরং শুধু তাদের জন্মস্থানের কারণে তারা এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের দেওয়া রায়টি অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোটের জন্য একটি বড় জয়। জোটটি গত মার্চ মাসে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনে থাকা ইউএসসিআইএসের এই বৈষম্যমূলক নীতিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিল।
মামলাকারী পক্ষের প্রতিনিধি ও লিবারেল আইনি গ্রুপ ‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ডের’ প্রধান স্কাই পেরিমান বলেন, ‘এ রায় একটি মৌলিক নীতিকে তুলে ধরেছে। ফেডারেল সরকার আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না বা মানুষ কোথা থেকে এসেছে তার ওপর ভিত্তি করে বৈষম্য করতে পারে না।’
তবে এই বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়াশিংটন ডিসিতে মোতায়েন করা ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গত নভেম্বরে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী এক কঠোর অভিযান শুরু করে, যার অংশ হিসেবে ইউএসসিআইএস এই নীতিগুলো গ্রহণ করেছিল।
প্রসিকিউটরদের মতে, রাহমানুল্লাহ লাকানওয়াল নামের একজন আফগান অভিবাসী হামলাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যদিও লাকানওয়াল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
এ ঘটনার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে সাময়িকভাবে অভিবাসন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।’
পরবর্তীতে ট্রাম্প তার প্রশাসনের অধীনে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৯টি করেন। পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ছিল আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়া। ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ও নিরাপত্তার অজুহাতে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাগুলোর যৌক্তিকতা দাবি করেছিল।
ইউএসসিআইএসের গৃহীত এই নীতিগুলো ওই ৩৯টি দেশের মানুষের অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। এখানে স্পষ্ট যে, ইউএসসিআইএস আইন মেনে চলেনি বা সঠিক উপায়ে কাজ করেনি। সংস্থাটি কংগ্রেসের দেওয়া অভিবাসন আইন এবং তাদের নিজেদের পরিচালনা করার প্রশাসনিক আইন—উভয়ই লঙ্ঘন করেছে।