Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

মাত্র ৩০ দিনেই যেভাবে ভাঙনের মুখে মমতার তৃণমূল

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:২৮ এএম

মাত্র ৩০ দিনেই যেভাবে ভাঙনের মুখে মমতার তৃণমূল

বিজ্ঞাপন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ক্ষমতা হারানোর মাত্র এক মাসের মধ্যেই বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। দলটির ভেতরে বিদ্রোহ, গণপদত্যাগ এবং নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষে এখন ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়ে টিএমসির ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি পায় ২০৭টি আসন, আর টিএমসি পায় মাত্র ৮০টি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই দলের ভেতরে অস্থিরতা বাড়তে থাকে।

বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে রিজু দত্তসহ আরও কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা শুরু করেন। তাদের অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন মমতার ভাতিজা ও দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিদ্রোহীরা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি।

দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন মমতার ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন অনুপস্থিত থাকেন। নির্বাচনের পর টিএমসির প্রথম বড় প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও খুব কম সংখ্যক বিধায়ক ও সাংসদ অংশ নেন।

এদিকে স্থানীয় সরকার পর্যায়েও টিএমসি বড় ধাক্কা খেয়েছে। গত এক মাসে শতাধিক কাউন্সিলর দল ছাড়েন। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হন। বিজেপি সরকার স্থানীয় প্রশাসনে অনিয়মের তদন্ত শুরু করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

সংকট সামাল দিতে টিএমসি সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে দল গোছানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এর মধ্যেই নতুন করে ‘স্বাক্ষর জালিয়াতি’ বিতর্ক সামনে আসে।

বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের প্রস্তাবে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরেক বিধায়ক সন্দীপন সাহা। অভিযোগ ওঠে, দলীয় বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।

এরপর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয়। ঋতব্রতের নেতৃত্বে আরও ৫৯ জন বিধায়ক স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে টিএমসি বিধানসভা দলের নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন। পরে স্পিকার তাদের স্বীকৃতি দেন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতা ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনার ফলে কার্যত টিএমসির বিধানসভা দলের নিয়ন্ত্রণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও বিদ্রোহী শিবির এখনো মমতাকে দলের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকার করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শভিত্তিক রাজনীতির বদলে ব্যক্তিনির্ভর সংগঠন হওয়ায় টিএমসিতে এই বিদ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শিবসেনা ও এনসিপির মতো বড় ধরনের দলভাঙনের দিকে এগোচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।

মাত্র এক মাস আগেও যে দলকে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি মনে করা হতো, সেই দলই এখন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার