Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

১০ বছর কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ দম্পতির আপিল খারিজ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:২২ এএম

১০ বছর কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ দম্পতির আপিল খারিজ

বিজ্ঞাপন

ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ দম্পতি লিন্ডসে ফোরম্যান ও ক্রেগ ফোরম্যানের ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির আদালত। তাদের পরিবারের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মোটরসাইকেলে বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ইরান পার হওয়ার সময় ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুরু থেকেই তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসলেও গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা তেহরানের এভিন কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে এই দম্পতির আইনি সহায়তাকারী দলের সদস্য ব্যারিস্টার হেইডি ডিকস্টাল বলেন, ক্রেগ এবং লিন্ডসে সাধারণ পর্যটক।

তাদের অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে এবং আটকের পর থেকেই তাদের মৌলিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

লিন্ডসের ছেলে জো বেনেট জানান, আপিল শুনানির সময় তার মা ও সৎ বাবাকে আদালতেই উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি আপিল কেন খারিজ করা হলো, তার কোনো কারণও দেখায়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ফার্সি ভাষায় লেখা কিছু নথিতে তাদের জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পড়তে না পারায় তারা স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।

বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবিতে এই দম্পতি বর্তমানে কারাগারে অনশন করছেন। পেশায় কাঠমিস্ত্রি ক্রেগ ফোরম্যান গত ২৫ দিন ধরে খাবার বর্জন করেছেন। তিনি কেবল চিনি, দুধ ও পানি গ্রহণ করছেন এবং ক্রমান্বয়ে দুর্বল ও কৃশ হয়ে পড়ছেন। মাঝে কিছুদিন অনশন ভাঙলেও বর্তমানে টানা ১৬ দিন ধরে অনশন করছেন পেশায় লাইফ কোচ লিন্ডসে ফোরম্যান।

সহবন্দিদের পরিবারের মাধ্যমে বাইরে আসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বেনেট জানান, তাদের শারীরিক অবস্থা দিন দিন আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছে।

এক মাস আগে বিবিসির সঙ্গে কথা বলার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই রায়কে ‘হতাশাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং এই দম্পতিকে নিরাপদে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে এই আটকাদেশকে ‘অন্যায় এবং জঘন্য’ বলে বর্ণনা করা হয়েছিল।

ইরানে প্রায় ছয় বছর বন্দি থাকার পর মুক্তি পাওয়া ব্রিটিশ নাগরিক নাজানিন জাগ্রি-র্যাটক্লিফের স্বামী রিচার্ড র্যাটক্লিফ এই বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের রেভল্যুশনারি কোর্ট মূলত কোনো প্রকৃত আদালত নয়, এটি সাজা দেওয়ার একটি মঞ্চ। লিন্ডসে ও ক্রেগের আপিল খারিজ করা আসলে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া একটি রাজনৈতিক বার্তা।’

উল্লেখ্য, এর আগে কয়েক শ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি পুরনো দেনা যুক্তরাজ্য পরিশোধ করার পরপরই নাজানিন জাগ্রি-র্যাটক্লিফকে মুক্তি দিয়েছিল ইরান, যদিও ব্রিটিশ কর্মকর্তারা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে সেই লেনদেনের সাথে মুক্তির সম্পর্ক স্বীকার করেননি।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মামলাটি এখন ইরানের সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তবে সেখানকার আইনি প্রক্রিয়া বা সময়সীমা সম্পর্কে তাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।

জো বেনেট অত্যন্ত উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি এই সংকটের কোনো শেষ দেখতে পাচ্ছি না, এটাই সবচেয়ে কষ্টের। আমরা শুধু তাদের সুস্থভাবে আমাদের মাঝে, নিজ দেশে ফেরত চাই।’

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার