বিজ্ঞাপন
ভদ্রতার মুখোশ পরে কী করতেন বিল গেটস? বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
বিজ্ঞাপন
বছরের পর বছর ধরে সযত্নে গড়ে তোলা হয়েছিল বিল গেটসের জনহিতৈষী ভাবমূর্তি। তবে সেটা এখন ধীরে ধীরে চাপের মুখে পড়েছে। যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ক্রমবর্ধমান তদন্তের মাঝে শনিবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে গেটসের সহজলভ্য ভাবমূর্তি ম্লান হয়ে আসছে।
জার্নালের সঙ্গে কথা বলা কর্মীরা জানিয়েছেন, গেটসের চেহারা ও পোশাক অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়। তার পোশাক পরীক্ষার জন্য বিশেষ মাপের একটি ম্যানিকুইন ব্যবহার করা হয়। সাদামাটা ভি-নেক সোয়েটার, বোতাম লাগানো শার্ট ও তার পরিচিত চশমা নিয়ে একটি বিশেষ পোশাক সংগ্রহ তৈরি করা আছে। গণমাধ্যমে প্রতিটি উপস্থিতির আগে কর্মীরা পোশাক বাছাই করে দিতেন, যাতে ১০২.৮ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক এই ধনকুবেরকে দূরের মানুষ নয়, বরং শান্ত ও সহজলভ্য বলে মনে হন।
তার অনলাইন উপস্থিতিও পরিকল্পিতভাবে তৈরি। ব্লগ ‘গেটস নোটস’-এ পাঠক টানতে এবং সামাজিক মাধ্যমে অনুসরণকারী বাড়াতে নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ভাইরাল হওয়া একটি ইউটিউব ভিডিও, যেখানে গেটস ও তার বন্ধু ওয়ারেন বাফেট একটি ডেইরি কুইনে আইসক্রিম পরিবেশন করছেন।
কীভাবে সতর্কতার সঙ্গে গেটসকে সবার সামনে উপস্থাপন করা হতো, তার প্রমাণ মেলে আরও একটি ঘটনায়। ২০২৪ সালে গেটস তার দ্বিতীয় নেটফ্লিক্স তথ্যচিত্র ‘হোয়াটস নেক্সট? দ্য ফিউচার উইথ বিল গেটস’ মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে জার্নাল জানিয়েছে, তথ্যচিত্রটির পর্বগুলো দেখার পর গেটসের বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গেটস ভেঞ্চারসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রযোজনা দলকে নয় পৃষ্ঠার একটি মন্তব্যপত্র পাঠান। সেখানে বলা হয়, গেটসের মুখের ‘বিরক্ত ভাব’টা বদলাতে হবে এবং বার্নি স্যান্ডার্সের পরিচিতি গেটসের ‘ওপরে’ দেখানো হচ্ছে, যা অদ্ভুত লাগছে। নেটফ্লিক্সের এক মুখপাত্র জার্নালকে জানিয়েছেন, তথ্যচিত্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অনুমোদন নেটফ্লিক্সের কাছেই ছিল।
গেটস ফাউন্ডেশন ও গেটস ভেঞ্চারস গেটসের জনপ্রিয়তা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও অনুপ্রেরণার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আসছে। তারা দেখেছে, এপস্টাইনের সঙ্গে সংযোগ এবং পরবর্তীতে প্রকাশিত এপস্টাইন ফাইলের অভিযোগগুলো বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক সংবাদের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষভাবে আলোচিত একটি ঘটনায় তার সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস ২০২১ সালের বিবাহবিচ্ছেদের পর জানিয়েছিলেন, এপস্টাইন ফাইলে তার সাবেক স্বামী সম্পর্কিত অভিযোগগুলো জেনে তিনি ‘অবিশ্বাস্য রকম দুঃখ’ পেয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে কর্মীদের সঙ্গে এক সভায় গেটস নিজেই স্বীকার করেছেন যে দুজন রুশ নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এবং এপস্টাইনের সঙ্গে পরিচয় ফাউন্ডেশনের মূল্যবোধের ‘বিপরীত’ ছিল।
একই মাসে ভারতের নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া এআই ইম্প্যাক্ট সামিটে তার মূল বক্তৃতা নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বাতিল হয়ে যায়। এপস্টাইন ফাইলে নতুন করে তার নাম আসার কারণে তিনি সরে দাঁড়ান।
ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, গেটসের বিরুদ্ধে ৪০ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক মনোভাব রাখেন। তার দল তাকে এখন কম প্রকাশ্যে আসার পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি ওয়াশিংটনে প্রতিবছর তার বাড়িতে আয়োজিত সিইও সম্মেলনের ডিনারও বাতিল করেছেন। বাফেটের সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকেও যাননি। বাফেট নিজেই বলেছেন, এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের পর থেকে তিনি গেটসের সঙ্গে কথা বলেননি।
আগামী ১০ জুন মার্কিন হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে বন্ধ দরজায় সাক্ষ্য দেবেন গেটস। সেখানে এপস্টাইনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হবে।
এ বিষয়ে গেটসের একজন মুখপাত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, ‘গেটস এই ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে আগামী মাসে স্বেচ্ছায় হাউস ওভারসাইট কমিটির সঙ্গে কথা বলবেন। ভুক্তভোগীরা যাতে ন্যায়বিচার পান, সেই আশায় গেটস সব এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের পক্ষে।’
সূত্র-ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল