বিজ্ঞাপন
বুর্জ খলিফায় বিলাসী জীবন, ৪০ কেজি স্বর্ণ স্ত্রীকে উপহার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৪:৫১ এএম
বিজ্ঞাপন
‘টাকা ঈশ্বর নয়, কিন্তু ঈশ্বরের চেয়েও কম নয়’। নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘ডেসি ব্লিং’-এর প্রথম পর্বে যখন সতিশকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, তখন তিনি এ কথা বলেন। এই সিরিজটি দুবাইয়ে বসবাসকারী ধনী ভারতীয় প্রবাসীদের বিলাসী জীবনধারা নিয়ে নির্মিত।
সাত পর্বের এই সিরিজ দেখতে দেখতে বোঝা যায়, কেন এএনএএক্স হোল্ডিং-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, উদ্যোক্তা সতিশ সানপাল এমন মন্তব্য করেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। রাজকীয় জীবনযাপন করেন। জানান, তিনি খুব ভালো ইংরেজি বলতে পারেন না। কিন্তু তার মতে, টাকা থাকলে সবকিছুই ঠিকঠাক হয়ে যায়।
সিরিজে সতিশ ও তার স্ত্রী তাবিন্দাকে দর্শকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন ভারতীয় অভিনেতা তেজস্বী প্রকাশ এবং করণ কুন্দ্রা। সতিশ বলেন, তাদের ক্ষমতা, প্রভাব এবং অর্থ রয়েছে।
সতিশ মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর থেকে উঠে এসেছেন। সেখানে তিনি ৮০ হাজার রুপি দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। ২০ বছর বয়সে তিনি দুবাই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, যখন আমি দুবাইয়ে আসি, তখন আমার কাছে এক মিলিয়ন দিরহাম ছিল। আমরা প্রথমে এখানে স্বর্ণ ব্যবসা শুরু করি। পরে আমি সফল হই। এখন আমি দুবাইয়ের একজন বিলিয়নিয়ার।
তিনি ২১ বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার দুই ছেলে রয়েছে। সতিশ ও তাবিন্দার বিয়ে হয়েছে ৯ বছর আগে এবং তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। তার নাম ইসাবেলা। ডাকনাম বেলা। ২০১৮ সালে তিনি এএনএএক্স হোল্ডিংস প্রতিষ্ঠা করেন। এর তিনটি বিভাগ রয়েছে- এএনএএক্স ডেভেলপমেন্টস, এএনএএক্স হসপিটালিটি ও এএনএএক্স ক্যাপিটাল। তাবিন্দা এএনএএক্স ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। ‘দ্য ট্যাব’-এর তথ্য অনুযায়ী, সতিশ ও তাবিন্দারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি (প্রায় ১৪ হাজার কোটি রুপি)।
বিলাসী জীবন: প্রথম পর্বেই করণ কুন্দ্রা মজা করে বলেন, তিনি সতিশ ও তাবিন্দার বিলাসবহুল বাড়ি থেকে বুর্জ খলিফা দেখতে পাচ্ছেন না। পরে তিনি বুঝতে পারেন, সেই বাড়িটিই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের ভেতরে। প্যাস্টেল রঙের ইন্টেরিয়র, উঁচু ছাদ, মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত কাচের জানালা- সব মিলিয়ে তাদের বাড়ি বিলাসিতায় ভরপুর। ইন্ডিয়া ডটকম এর তথ্য অনুযায়ী, দুবাই হিলসেও তাদের একটি বহু কোটি রুপির বাংলো আছে। সিরিজে তাকে লন্ডনের রিয়েল এস্টেট সম্পত্তিও দেখতে দেখা যায়। তেজস্বীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে সতিশ বলেন, আমি বিন্দাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আমাদের ১০ম বিবাহবার্ষিকীতে তাকে স্বর্ণের সঙ্গে ওজন করব। তিনি আরও বলেন, তার স্ত্রী অর্থের জন্য তাকে বিয়ে করেননি। তাবিন্দা জানান, আমার কাছে ইতিমধ্যেই ৪০ কেজি স্বর্ণ আছে। সতিশ স্বর্ণ কিনতে ভালোবাসে। প্রতি ধনতেরাসে সে আমাকে প্রায় ৩ কেজি স্বর্ণ উপহার দেয়। সতিশ গর্ব করে বলেন, বিন্দা হলো গোল্ড কুইন। শুধু ৪০ কেজি স্বর্ণই নয়, এ দম্পতি পার্টি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রায়ই স্বর্ণ, হীরা ও মূল্যবান রত্ন প্রদর্শন করেন। সতিশ শুধু স্ত্রীকে প্রতি বছর কেজি কেজি স্বর্ণই দেন না, মেয়ে জন্মের আগেই তার জন্য স্বর্ণের কাটলারি বানিয়ে রেখেছিলেন। তাবিন্দা বলেন, মেয়ে বেলা জন্মের আগেই তার বাবা তার জন্য স্বর্ণের প্লেট, গ্লাস ও চামচ বানিয়ে রেখেছিলেন। সে দুবাইয়ের সবচেয়ে ধনী শিশু। তিনি আরও জানান, মেয়ের প্রথম জন্মদিনে প্রিন্সেস ক্যারেজে প্রবেশ, স্বর্ণের পোশাক এবং ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের জ্যাকেট ছিল। কেকও ছাদ থেকে নামানো হয়েছিল।
সতিশ তার মেয়ের জন্য কাস্টমাইজড পিঙ্ক রোলস-রয়েস অর্ডার করেছেন। এর মূল্য প্রায় ৫.৮ কোটি রুপি বলে জানিয়েছে অনলাইন ইটি নাও। তাবিন্দা জানান, তাদের পরিবারের কাছে অন্তত পাঁচটি রোলস-রয়েস এবং একটি বুগাতি চিরন রয়েছে, যার দাম প্রায় ৩৫ কোটি রুপি। এ দম্পতির ব্যক্তিগত ইয়ট, দামি ঘড়ি, ব্যাগ, পোশাক এবং লিমিটেড এডিশন সংগ্রহও সিরিজে দেখানো হয়েছে সিরিজে।