বিজ্ঞাপন
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওবিসি সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০১:৩০ এএম
বিজ্ঞাপন
শপথ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। নতুন ঘোষণায় রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিদ্যমান ওবিসি সুবিধাও পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারের দাবি, সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ‘স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য’ আনতেই এই পদক্ষেপ।
এদিকে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংরক্ষণ শুধুমাত্র সামাজিক ও আর্থিক পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য হওয়া উচিত, ধর্মের ভিত্তিতে নয়।
রাজ্য মন্ত্রিসভার দাবি, আগের সরকার বিপুল সংখ্যক মুসলিম গোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছিল। বিজেপির অভিযোগ, এর ফলে প্রকৃত অনগ্রসর অনেক মানুষ সংরক্ষণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেই যুক্তিতেই নতুন সরকার ওবিসি নীতিতে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এখন থেকে শুধুমাত্র প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষই ৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো গোষ্ঠী আপাতত ওবিসি তালিকায় থাকবে না। সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তি—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন এই নিয়ম কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার পথে হাঁটছে। ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করেই বিজেপি নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক আরও মজবুত করতে চাইছে বলে দাবি বিরোধী শিবিরের। তাদের বক্তব্য, সংরক্ষণের প্রশ্নে সামাজিক ও আর্থিক পিছিয়ে পড়াকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে বিজেপি মুসলিমদের সরিয়ে দেওয়াকেই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের একাধিক মুসলিম গোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সেই মামলাকে সামনে রেখেই বিজেপি সরকার এবার আরও কড়া অবস্থান নিল। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলার রাজনীতিতে মুসলিম ওবিসি সংরক্ষণ ইস্যু আগামী দিনে আরও বড় সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।