Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

৩৫ প্লট ও ৩৯ বাড়ির মালিকানা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মমতার পরিবার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

৩৫ প্লট ও ৩৯ বাড়ির মালিকানা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মমতার পরিবার

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের একাধিক জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা হাসিল করেছে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার, এমনই এক গুরুতর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্যে। তৃণমূল সরকারের আমলের বিভিন্ন দুর্নীতি যেভাবে খুঁড়ে বের করা হচ্ছে, তার রেশ ধরে এখন প্রশ্ন উঠছে, সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের এই ‘জমি কেলেঙ্কারি’রও কি তদন্ত হবে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের বিরুদ্ধে জমি ও বাড়ি দখলের এই অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল সিপিএমের তৎকালীন মন্ত্রী গৌতম দেব আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রথম এই তথ্য-প্রমাণ সামনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ‘ব্যানার্জি পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য কালীঘাট, আলিপুর ও চেতলায় বিপুল জমি ও ফ্ল্যাট কিনেছেন। মমতার ভাই ও ভাবীদের নামে থাকা কিছু দলিলে তাদের ঠিকানা হিসেবে ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট উল্লেখ করা আছে, যা স্বয়ং মমতার বাসভবন।’

সেই সময় ১৪টি প্লট ও ফ্ল্যাটের দলিলের ফটোকপি হাজির করে গৌতম দেব দাবি করেছিলেন, মমতার ভাই সমীরের স্ত্রী কাজরী ব্যানার্জি, মমতার ভাইপো ও তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবারের প্রার্থী অভিষেক ব্যানার্জির মা লতা ব্যানার্জি এবং মমতার আরেক ভাই অজিত ব্যানার্জির নামে বিপুল সম্পত্তি কেনা হয়েছিল। এমনকি পুরীতে একটি হোটেলও কেনা হয়। মাত্র কয়েক বছরেই মমতার পরিবার প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি কেনে, যা ছিল আদতে ‘হিমশৈলের চূড়া’ মাত্র।

পরবর্তী সময়ে বামপন্থিদের দলীয় মুখপত্রে দাবি করা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর ‘উচ্চ পদ’ ব্যবহার করে তার পরিবারের সদস্যরা বহু ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিককে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করছেন। স্থানীয় থানা এই বিষয়ে এফআইআর নিতে পর্যন্ত অস্বীকার করত। উচ্ছেদের প্রতিবাদ করলে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়েরা সাধারণ মানুষকে মারধর করতেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার প্রধানত কালীঘাট এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এলাকায় সন্দেহজনক জমি লেনদেনের মাধ্যমে আনুমানিক ২০০ কোটি রুপি হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মমতার তিন ভাই কার্তিক ব্যানার্জি, স্বপন ব্যানার্জি ও অজিত ব্যানার্জি এবং তাদের জীবনসঙ্গীরা জড়িত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনেই তার সঙ্গে থাকতেন তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা ও ভাগ্নে অভিষেক ব্যানার্জিও।

অভিযোগ অনুযায়ী, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ২৯সি, ২৯ডি, ৩০এ, ৪৫এ, ৪৫ডি, ১২, ৮২বি, ৮০এ এবং কালীঘাট রোডের ৪৯সি, ৬৩/৮, ৭৬/৩, পার্বতী চক্রবর্তী লেনের ৩ নং বাড়ি এবং রানীশঙ্করী লেনের ২৪ ও ২৫ নং বাড়িসহ মাত্র ৪০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ১৭টি প্লট নিয়ে প্রথম থেকেই চরম বিতর্ক ছিল।

এই পুরো অভিযোগের বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ঝন্টু বরাইক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘একদিকে কালীঘাট মোড় থেকে কালীঘাট রোডের সপ্তপল্লি ক্লাব, অন্যদিকে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ৪৪ কলোনি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার অন্তত ৩৫টি প্লট সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার পরিবারের হাতে চলে গেছে। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ও কালীঘাট রোডের সিংহভাগ এলাকাই এখন মমতার দাদা ও ভাইদের দখলে।’

ঝন্টু বরাইক আরও বলেন, ‘একটা সময় এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার টালির ঘরে বাস করত। কিন্তু মাত্র আট-নয় বছরে তারা ৩৫টি প্লট এবং ৩৯টি বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছে। বর্তমানে কালীঘাট সংলগ্ন আদি গঙ্গার ধার বরাবর সব জমিই এদের দখলীকৃত এবং শুধু কালীঘাট থানা এলাকাতেই এদের বাড়ি আছে ২০টি।’

তার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, বিতর্কিত সম্পত্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ৮০এ, ৩৭এ, ৫৬, ২৯সি, ২৯ডি, ৩০এ, ৩০বি, ৩১, ৪৫, ৪৫ডি, ৪৪সি, ৩৩বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট; ১৮৮এ ও ৮৫/১ হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট; ৩ পার্বতী চক্রবর্তী লেন; ২৪ ও ২৫ রানী শঙ্কর লেন এবং ১২১, ৪৯সি ও ৭৬/৩ কালীঘাট রোড। মাত্র আধ কিলোমিটারের মধ্যে ৩৫টি প্লটের মালিকানা একটি মাত্র পরিবারের হাতে চলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কলকাতা শহরে এমন কোনো জাদুকাঠি নেই যার ছোঁয়ায় মুড়ি-মুড়কির মতো জমি-বাড়ি বাড়ানো যায়। গরিব ও নিম্নবিত্তদের হাতছাড়া করে কার্তিক ব্যানার্জি, অজিত ব্যানার্জি কিংবা স্বপন ওরফে বাবুন ব্যানার্জির নামে এই সম্পত্তিগুলো নেওয়া হয়েছে।

এই জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে অতীতে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। ২০২০ সালে বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বাংলাকে নিজের জমিদারি ভাবেন। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এখন ব্যানার্জি স্ট্রিট হয়ে গিয়েছে!’ পরবর্তীতে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই নিয়ে দফায় দফায় সরব হয়েছিলেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার