বিজ্ঞাপন
এক্সিট পোলে এগিয়ে বিজেপি: যা বললেন ক্ষুব্ধ মমতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম
বিজ্ঞাপন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন গন্তব্য ৪ মে-র ফলাফল। জনমত আর বুথফেরত সমীক্ষার জটিল সমীকরণ যখন রাজনীতির অলিন্দে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই পূর্বাভাস নস্যাৎ করে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কোনও সমীক্ষা নয়, বরং সাধারণ মানুষের রায় তৃণমূলকে দুই শতাধিক আসনে পৌঁছে দেবে। বড় জয়ের প্রত্যাশা রেখে মমতা সাফ জানিয়েছেন, রাজ্যে আবারও ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর সরকারই ক্ষমতায় ফিরছে।
বেশিরভাগ বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে সুবিধাজনক অবস্থানে দেখানো হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে নিছক ‘রাজনৈতিক প্রচার’ বলে অভিহিত করেছেন। বৃহস্পতিবার এক জরুরি ভিডিও বার্তায় তিনি কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বলেন, ‘পূর্বাভাস দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও সংবাদমাধ্যমগুলো এভাবেই আমাদের পিছিয়ে রেখেছিল, কিন্তু বাংলার মানুষ আমাদেরই জিতিয়েছিলেন। বিজেপি জেনে গেছে যে তারা হারছে, তাই কর্মীদের মনোবল ভাঙতে এই মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলছে।’ তাঁর দাবি, তৃণমূল এবার অন্তত ২২৬টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।
নির্বাচনী ময়দানের লড়াই শেষে এখন লড়াইটা মূলত গণনাকেন্দ্রের পাহারার। এই পর্বে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ মমতা। তিনি প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী এবং শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ৪ মে ফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, স্ট্রংরুম থেকে গণনাকেন্দ্রে ইভিএম স্থানান্তরের সময় বড় ধরনের কারচুপির পরিকল্পনা করা হতে পারে। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, ‘আমি যদি নিজে ভবানীপুর কেন্দ্রে পাহারা দিতে পারি, তবে আপনারা কেন পারবেন না? রাত জেগে পাহারা দিন, পরদিন ভোরে অন্য দলের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তবেই বিশ্রাম নেবেন।’
২৯৪ আসনের এই লড়াইয়ে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। তবে বর্তমান সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ যেন কার্যত দ্বিখণ্ডিত। 'ম্যাট্রাইজ' বা 'পি-মার্ক'-এর মতো সংস্থাগুলো যেখানে বিজেপিকে ১৪৫ থেকে ১৭৫টি আসন দিয়ে এগিয়ে রেখেছে, সেখানে 'পিপলস পালস' এবং 'জনমত'-এর পূর্বাভাস বলছে উল্টো কথা। এই দুই সংস্থার মতে, তৃণমূল ১৭৭ থেকে ২০৫টি আসন পেয়ে অনায়াসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। বিশেষ করে প্রজা পোল বিজেপিকে ২০৮টি আসন পর্যন্ত দিলেও, মমতা সেই পরিসংখ্যানকে ‘বিজেপি প্রভাবিত বয়ান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো নজিরবিহীন ভোটদানের হার। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যথাক্রমে ৯৩.১৯% ও ৯২.৬৭% ভোট পড়েছে, যা ১৯৪৭ সালের পর বাংলায় সর্বোচ্চ। খারাপ আবহাওয়া এবং প্রবল গরম উপেক্ষা করে মানুষের এই ব্যাপক অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মমতা। তবে কিছু এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও ছাড়েননি তিনি।
এখন রাজ্যজুড়ে শুধু একটিই প্রশ্ন—বুথফেরত সমীক্ষার সেই চেনা বিজেপি জয়ী হবে, নাকি মমতার ‘দিদির ওপর ভরসা রাখুন’ স্লোগান সত্যি হবে? ৪ মে সকালে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই স্পষ্ট হবে বাংলার শাসনভার কার হাতে থাকছে। তবে ফল যাই হোক না কেন, গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা ঘিরে প্রশাসন যে অত্যন্ত সতর্ক, তা স্পষ্ট। কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালানোর আহ্বান জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের রায়ের ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছেন।