বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা: আসামির বয়ানে অসঙ্গতি, বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪০ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে প্রসিকিউটররা। তদন্তে উঠে এসেছে সন্দেহভাজনের দেওয়া পরস্পরবিরোধী বয়ান এবং হত্যাকাণ্ডের সময়কার একটি বিস্তারিত টাইমলাইন। খবর সিএনএন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, নিহত জামিল লিমন (২৭) যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, তিনি একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন।
এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ-এর বিরুদ্ধে লিমন ও তার বন্ধু নাহিদা বৃষ্টি (২৭)-কে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তবে কর্মকর্তাদের ধারণা, তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
প্রসিকিউটরদের আবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধের ‘নৃশংস ও সহিংস প্রকৃতি’ বিবেচনায় আসামিকে জামিন না দিয়ে বিচার পর্যন্ত কারাগারে রাখার দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘আসামিকে মুক্তি দিলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে এবং কোনো শর্তই এই ঝুঁকি কমাতে পারবে না।’
রোববার রাতে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফস অফিস জানায়, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণে জলাশয় থেকে মানবদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেগুলোর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
তদন্তকারীরা বৃষ্টির পরিবারকে বাংলাদেশে ফোন করে জানান, লিমন ও আসামির শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ রক্তের উপস্থিতির ভিত্তিতে তারা মনে করছেন বৃষ্টিও নিহত হতে পারেন।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। তার পিঠের নিচের অংশে গভীর আঘাত লিভার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
লিমন ও বৃষ্টি সর্বশেষ ১৬ এপ্রিলের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় দেখা গিয়েছিল এবং পরদিন তাদের নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম দাবি করেন, ওইদিন তিনি তাদের দেখেননি। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, ১৬ এপ্রিল রাতে তার গাড়ি ক্লিয়ারওয়াটার বিচ এলাকায় ছিল, যেখানে লিমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, ওই দম্পতি কখনও তার গাড়িতে ওঠেননি এবং তিনি ক্লিয়ারওয়াটারেও যাননি। তবে পরে মোবাইল লোকেশন নিয়ে মুখোমুখি করা হলে তিনি বয়ান পরিবর্তন করে বলেন, লিমন তাকে তার বান্ধবীসহ সেখানে নিয়ে যেতে বলেছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেন, হিশামের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ ছিল। পরে তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন।
এছাড়া ১৬ এপ্রিলের একটি সিভিএস দোকানের রসিদে আবর্জনার ব্যাগ, জীবাণুনাশক ওয়াইপস এবং এয়ার ফ্রেশনার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে, যা ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার সকালে একটি পৃথক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ তার বাড়িতে গেলে আবুঘারবিয়েহকে গ্রেফতার করা হয়। চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা, যা পুরো কমিউনিটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।’
শনিবার আদালতে প্রাথমিক শুনানির পর তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবারের শুনানিতে প্রসিকিউটররা যুক্তি দেবেন, তিনি এখনও সমাজের জন্য হুমকি এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই রাখা উচিত।
হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ ছাড়াও মৃতদেহ গোপনে সরানো, মৃত্যুর ঘটনা গোপন করা, আলামত নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং হামলার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।