বিজ্ঞাপন
সাতসকালে ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮ এএম
বিজ্ঞাপন
জাপানের উত্তরের দ্বীপ হোক্কাইডোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে যদিও সুনামির কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবে ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতার মধ্যে নতুন করে বড় কম্পনের আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভূমিকম্পে জাপানজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, জাপানের উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডো দ্বীপে সোমবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের আবহাওয়া সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী কম্পনের মধ্যে এটি সর্বশেষ কম্পনের ঘটনা।
জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলে ৬ দশমিক ২ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮৩ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৬ দশমিক ১ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়।
জেএমএ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের পর কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) বলেছে, কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় উৎপত্তি হওয়ায় প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম।
তবে জেএমএ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব এলাকায় বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে সেখানে পাথর ধসে পড়া ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এ ছাড়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একই মাত্রার আরও ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে হোক্কাইডোর দক্ষিণে সমুদ্রে আরও একটি ৫ দশমিক ০ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। গত সপ্তাহেই জেএমএ সতর্ক করেছিল, বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেড়েছে। এর পেছনে ছিল গত সোমবার উত্তর ইওয়াতে প্রদেশের উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প।
ওই ভূমিকম্পে অন্তত ছয়জন আহত হন এবং শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত টোকিওতেও বড় বড় ভবন কেঁপে ওঠে। এ ছাড়া ইওয়াতের একটি বন্দরে ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানে এবং উত্তর জাপানের অন্য এলাকাতেও ছোট ঢেউ দেখা যায়।
এরপর জেএমএ জানায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় নতুন বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা এখন বেশি।
প্রসঙ্গত, জাপান পৃথিবীর সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি বড় টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে থাকে।
প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ।
২০১১ সালের ভয়াবহ ৯ দশমিক ০ মাত্রার সমুদ্রতলের ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামির স্মৃতি এখনও জাপানের জন্য বেদনাদায়ক। ওই ঘটনায় প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।