Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যেভাবে তেলের ঘাটতি পূরণ করছে ভারত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

যেভাবে তেলের ঘাটতি পূরণ করছে ভারত

বিজ্ঞাপন

চীন, যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ভারত। সাধারণত দেশটির প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর ওই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেয় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজণায় বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটের মধ্যে তেলের ঘাটতি মোকাবিলায় এবার রাশিয়া, আফ্রিকা ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করছে ভারত।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের মতো বড় ভোক্তাদের তুলনায় কম মজুদ থাকা এবং আমদানিনির্ভরতা বেশি হওয়ায়  হঠাৎ তেলের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে ভারতকে। ইতোমধ্যে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহে কিছুটা চাপ দেখা দিলেও, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের মতো জ্বালানি সংকট এখনো তৈরি হয়নি। 

ঔদ্ধত্য এই পরিস্থিতিতে পুরোনো অংশীদারদের দিকে ঝুঁকেছে নয়াদিল্লি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সহায়তা এসেছে রাশিয়া থেকে।

বার্তা সংস্থা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ভারত দৈনিক গড়ে প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছে, যা আগের দুই মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিশ্বব্যাপী জাহাজে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যের উপর নজরদারি রাখা সংস্থা ক্যাপলার বিশ্লেষক নিকিল দুবের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সাময়িক ছাড়ের কারণেই এই আমদানি বেড়েছে। মার্চ মাসে সমুদ্রপথে থাকা রুশ তেলের ওপর এই ছাড় কার্যকর ছিল।

এদিকে, এই ছাড়ের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি।

তার অভিযোগ, এতে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ থামাতে আর্থিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে সম্প্রতি এই ছাড় আরও এক মাস বাড়িয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন।

অন্যদিকে আফ্রিকার দেশগুলো থেকেও আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা থেকে গত মার্চ মাসে দৈনিক গড়ে ৩ লাখ ২৭ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে ভারত। যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় তিনগুণ।

একইভাবে নাইজেরিয়া থেকেও তেল সরবরাহ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আফ্রিকার এই তেল এখন ভারতের জন্য কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি চলতি মাসে ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আসা শুরু হয়েছে।

তবে এই বহুমুখীকরণ সত্ত্বেও সামনে দেশটির জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। মার্চ মাসে ভারতের মোট তেল আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৫.২ মিলিয়ন ব্যারেল।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আফ্রিকার তেল পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্যের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না। কারণ বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে ভারতের রিফাইনারিগুলোর সামঞ্জস্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে অনেক।

এছাড়া দেশটিতে তেলের দামও বাড়ছে। চলতি এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের তুলনায় প্রতি ব্যারেল ৫ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে তেল কিনতে হয়েছে ভারতকে।

যদিও সরকার এখনো জ্বালানির দাম বাড়ায়নি। বরং শুল্ক কমিয়ে ভোক্তাদের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। তবে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হলে লিটারপ্রতি প্রায় ২৮ রুপি পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানিগুলো ক্ষতির মুখে থাকলেও আপাতত ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। গত চার বছরে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সরকার।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার